আমাদের ভারত, ১৯ ফেব্রুয়ারি:হঠাৎ করেই চড়চড় করে বাড়ছে মহারাষ্ট্রে করোনার সংক্রমণ। ইতিমধ্যেই সংক্রমণ ৫৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বেড়েছে দৈনিক সংক্রমণের হার। আর এটাই চাপে ফেলেছে মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রককে।
করোনার টেস্ট ও কন্ট্রাক্ট ট্রেসিংয়ে ধরা পড়েছে করোনার একটি নতুন স্ট্রেন ছড়িয়েছে মহারাষ্ট্রের দুটি জেলায়। অমরাবতী ও আকুলা জেলায় বহুজনের নমুনা পরীক্ষা করে এই নতুন স্ট্রেনের খোঁজ মিলেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন এই স্ট্রেনের সঙ্গে ব্রিটেন ও দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিলীয় স্ট্রেনের মিল আছে কিনা তা এখনো জানা যায়নি। তবে রোগীদের থেকে নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স করে দেখা গেছে ওই নতুন স্ট্রেন খুবই সংক্রামক। দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
করোনার নতুন স্ট্রেনের মিউটেশনে শুরু হয়ে গেছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভাইরাল স্ট্রেনের জিনগত বিন্যাস যদি বদলে যায় বা জেনেটিক মিউটেশন শুরু হয় তাহলে সেটি স্ট্রেনের সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সেই কারণেই চিন্তা আরো বেড়েছে।
আরো একটি বৈশিষ্ট্য দেখা গেছে এই নতুন স্ট্রেনে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যতজনের শরীরে করোনার নয়া স্ট্রেনের খোঁজ মিলেছে, তাদের বেশিরভাগই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। অর্থাৎ এই স্ট্রেনের সংক্রমণে নিউমোনিয়াই উপসর্গ হিসেবে দেখা যাচ্ছে রোগীর শরীরে। প্রায় ১১৫০ জন করোনা রোগীর শরীরে নতুন স্ট্রেনের মিউটেশন লক্ষ্য করা গেছে। নাগপুর ঔরঙ্গাবাদেও এই নতুন স্ট্রেন ছড়িয়েছে। সংক্রমিত সংখ্যা গত ১৫ দিনে মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই নতুন শ্রেণীর সংক্রমণ আটকানো না গেলে বহু জনের শরীরে রোগ ছড়িয়ে পড়বে। বেশিরভাগ মানুষই করোনা বিধি মানছে না। লোকাল ট্রেন গুলিতে মাস্ক ছাড়াই সফর করতে দেখা যাচ্ছে মানুষকে। মাস্ক, সোশ্যাল ডিসটেন্স কিছুই মানছেন না অনেকেই। সংক্রমণ এতটাই ছড়িয়েছে যে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

