সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৩০ অক্টোবর: ফের বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান ৮২টি পরিবারের। আজ বড়জোড়া ব্লকের খাঁড়াড়ি গ্ৰামের এই ঘটনাকে ঘিরে রীতিমতো রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়ায়। বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসার একটা প্রবণতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। নির্বাচনে সব ভবিষ্যৎ বাণীর হিসেব উল্টে দিয়ে তৃণমূল তৃতীয়বারের জন্য রাজ্যের ক্ষমতা দখল করতেই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেবার একটা হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। তৃণমূলে টিকিট না পেয়ে রাতারাতি বিজেপির শিবিরে গিয়ে ভেড়েন তন্ময় ঘোষ। বিষ্ণুপুর বিধানসভায় টিকিট যোগাড়ও করে নেন তিনি। জিতেও যান পদ্ম ছাপ নিয়ে। জেতার পরই বিধায়ক হয়ে এক মাসের মধ্যেই তিনি তৃণমূলে ফিরে যান। বাঁকুড়ার ১২ টি আসনের মধ্যে বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলায় ৬ আসনের মধ্যে বড়জোড়া বাদে ৫ টি আসনে জয়লাভ করে বিজেপি।
তন্ময় ঘোষ বিজেপিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে স্বস্থানে ফিরতেই বিজেপিতে ভাঙন শুরু হয়। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও যোগদান মেলার আয়োজন করছিল তৃণমূল। মাঝখানে খানিক বিরতি ছিল বিজেপি ও সিপিএম ছাড়ার। শনিবার বড়জোড়া ব্লকের খাঁড়ারি গ্রামের ৮২টি পরিবার সিপিএম, বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করে। এই যোগদান পর্বে যেমন রয়েছেন মাঁজমুড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সিপিএমের প্রাক্তন উপ প্রধান তেমনি রয়েছেন বিজেপির একাধিক বুথ স্তরের নেতা কর্মীরা। বড়জোড়ার বিধায়ক তথা তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অলক মুখার্জি ও বাঁকুড়া জেলা পরিষদের কো-মেন্টর আশুতোষ মুখার্জি, দলের অঞ্চল সভাপতি অরিজিত কুন্ডু অন্য দল ছেড়ে আসাদের হাতে তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা ধরিয়ে দেন।
বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলায় তুলনামূলক ভাবে ভালো ফল করলেও বর্তমানে স্বস্তিতে নেই তারা। একটি গ্রাম থেকে এতগুলো পরিবার তৃণমূলে যোগদান করায় তৃণমূল যথেষ্ট শক্তিশালী হল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
বিধায়ক অলক মুখার্জি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ আজ কি দুর্বিষহ কষ্টে জীবন কাটাচ্ছেন তাতে সবাই ভুক্তভোগী। বিজেপি দেশের সর্বনাশ করে ছাড়বে। নরেন্দ্র মোদীকে গদিচ্যুত করতে মানুষ দলে দলে বিজেপি ছাড়ছেন। এবার বিজেপিকে দেশ ছাড়া করতে দলনেত্রী কোমর বেঁধে নেমেছেন। সারা দেশ তাকে চাইছে।
অন্যদিকে বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুজিত অগস্থি বলেন, বড়জোড়ায় আমরা নিচুতলার সংগঠনে চোখ বন্ধ করে তৃণমূল কর্মীদের নিয়েছিলাম। তাই এই জেলার একমাত্র বড়জোড়াতেই হেরেছি আমরা। এখন সেই বিশ্বাসঘাতকদের কেউ যদি দল ছেড়ে গেছেন তাহলে আমরা খুশি। তবে ৮২ টি পরিবার বলে তৃণমূল যেভাবে নিজেদের ঢাক বাজাচ্ছে তা কিন্তু নয়। গোটাটাই ওদের সাজানো নাটক।
বড়জোড়ার সিপিএমের প্রাক্তন বিধায়ক সুজিত চক্রবর্তী বলেন, এটা অপপ্রচার ছাড়া কিছুই নয়, সিপিএম থেকে একজন কর্মীও তৃণমূলে যায়নি।

