হাড়হিম করা ঘটনা! কুমারগঞ্জে শৌচকর্ম করবার নাম করে জঙ্গলে সন্তান প্রসব করে পালিয়ে গেল মা

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ২০ জুলাই: হাড়হিম করা ঘটনা। পরিবারকে অন্ধকারে রেখে শৌচকর্ম করার নাম করে জঙ্গলে সন্তান প্রসব করে পালিয়ে গেল মা। চার ঘন্টা পর পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় জঙ্গলের ভেতর থেকে উদ্ধার সদ্যোজাত শিশুপুত্র। গোটা ঘটনাকে ঘিরে আলোড়ন দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জের বন্দরপাড়া এলাকায়। ঘটনা জানতে পেরেই আঁতকে উঠেছেন প্রতিবেশীরা। বর্তমানে সুস্থ ও স্বাভাবিক সদ্যোজাত শিশুপুত্রটি চিকিৎসাধীন রয়েছে বালুরঘাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে।

জানা যায়, কুমারগঞ্জের বন্দরপাড়ার বাসিন্দা পেশায় দিনমজুর সিরাজ শেখ। পরিবারে বৃদ্ধ মা ছাড়াও স্ত্রী আরুজা বিবি ও তার দুই ছেলে রয়েছে। যাদের একজনের বয়স ১৮ এবং অপরজনের ৯ বছর। বেশকিছুদিন ধরেই আরুজা বিবি পেটের যন্ত্রণা অনুভব করলেও কিছুটা গোপন রেখেছিলেন পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীদের কাছে। কেউ জিজ্ঞাসা করলে তাদের বলতেন কিডনির সমস্যা রয়েছে, তারই ব্যাথা অনুভব করছেন। মঙ্গলবার সেই ব্যাথা একপ্রকার চরম পর্যায়ে পৌছাতেই প্রতিবেশী এক মহিলা ও তার ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে টোটোতে করে রওনা হন বালুরঘাট হাসপাতালের উদ্দেশ্যে। পথে কুমারগঞ্জের ফরেস্ট সংলগ্ন মাঝিয়ান ব্রিজ এলাকায় শৌচকর্ম করবার নাম করে ঝোঁপের মধ্যে ঢুকে পড়েন তিনি। যদিও সেই সময় ওই মহিলার ছেলে ও প্রতিবেশী এক মহিলা টোটোতেই ছিলেন। কিছুক্ষণের মধ্যে ঝোঁপ থেকে বেরিয়ে এসে টোটোতে উঠে পড়েন আরুজা বিবি। কিন্তু সেই সময় তার পায়ের বিভিন্ন অংশে রক্ত দেখে টোটোতে বসে থাকা তার ছেলে জিজ্ঞাসা করলে সে প্রশ্ন এড়িয়ে যান মা আরুজা বিবি। প্রশ্ন জাগে প্রতিবেশী ওই মহিলার মধ্যেও। যদিও তড়িঘড়ি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতেই চিকিৎসকের প্রশ্নবানে পড়েন আরুজা বিবি ও তার সাথে থাকা পরিবারের লোকেরা।

সন্তান কোথায়? চিকিৎসকের করা এই প্রশ্নে হতচকিত হয়ে পড়েন প্রতিবেশী ওই মহিলা। প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে চিকিৎসকের চাপে স্বীকার করতে বাধ্য হন আরুজা বিবি। ঘটনার খবর কুমারগঞ্জ থানার পুলিশের কাছে পৌছাতেই তড়িঘড়ি ওই এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের তৎপরতায় জঙ্গলের মধ্যে থেকে উদ্ধার করা হয় সদ্যোজাত শিশুপুত্র টিকে। বর্তমানে শিশুটি বালুরঘাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সদ্যোজাত শিশুর প্রতি মায়ের এমন অমানবিক আচরণে আঁতকে উঠেছেন প্রতিবেশীরা।

তবে কি কারণে এমন ঘটনা তা নিয়ে জোর তদন্তে নেমেছে কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ। যদিও অনেকে মনে করছেন দারিদ্রতা ও লোকলজ্জার ভয়েই এমন গোপনীয়তা অবলম্বন করেছিলেন ওই মহিলা।

আরুজা বিবির শাশুড়ি আমিনা বেওয়া বলেন, তার পেটে যে সন্তান ছিল তা তারা কেউই জানতেন না। কিডনির সমস্যার কারণে তার পেট ফুলছিল বলেও জানিয়েছেন। এরপর যে ঘটনা হয়েছে তা নিয়ে যথেষ্ট লজ্জিত তারা। বাচ্চাটি সুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

প্রতিবেশী জ্যোৎস্না বিবি বলেন, বহুবার তাকে জিজ্ঞাসা করেছেন কিন্তু প্রত্যেককেই কিডনির সমস্যা বলেছেন। কিন্তু ওইদিন হাসপাতালে নিয়ে যাবার পথে জঙ্গলে যে ওইভাবে সন্তান প্রসব করে পালিয়ে যাবে তা ভেবেই তারা লজ্জা বোধ করছেন। যদিও পরে জঙ্গল থেকেই ওই শিশুটিকে তারা উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *