কেশপুরে দলের গোষ্ঠী কোন্দল নিয়ে নাজেহাল তৃণমূল, অনেক রাত পর্যন্ত বৈঠক করলেন জেলা নেতৃত্ব

পার্থ খাঁড়া, মেদিনীপুর, ৮ অক্টোবর: পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুরে দলের গোষ্ঠী কোন্দল নিয়ে নাজেহাল তৃণমূল নেতৃত্ব। কোন্দল মেটাতে অনেক রাত পর্যন্ত বৈঠক করলেন জেলা তৃণমূল নেতারা। কিন্তু তাতেও মিলল না সমাধানসূত্র। এমনকী বৈঠক শেষে বিধায়ক শিউলি সাহা গাড়িতে উঠতে গেলে তাকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় কর্মীরা।

দিন পাঁচেক আগে পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরে সুকুমার সেনগুপ্ত মহাবিদ্যালয় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। রক্তাক্ত হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন। এরকম পরিস্থিতি কেশপুরে বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যেও রয়েছে গোষ্ঠী কোন্দল। তাই পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে এই সমস্যার সমাধানে রবিবার সন্ধ্যা থেকে বৈঠকে বসেছিলেন জেলা নেতৃত্ব। উপস্থিত ছিলেন জেলা তৃণমূলের কো-অর্ডিনেটের অজিত মাইতি, কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহা। বৈঠকে ডাকা হয়েছিল কেশপুর ব্লকের বিভিন্ন নেতা কর্মীদের। কেশপুর কলেজের টিএমসির দুটি ইউনিটের নেতাদের ডেকে সমন্বয় করে জানিয়ে দেওয়া হয় আপাতত এই কলেজে টিএমসিপির কোনও ইউনিট থাকছে না। পরবর্তীকালে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জেলা কোঅর্ডিনেটর অজিত মাইতি জানিয়েছেন, “টিএমসিপি ইউনিট ভেঙে দেওয়া হল আপাতত এই কলেজে। কয়েক মাস পর পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেই সঙ্গে কেশপুরের বিভিন্ন অঞ্চলের নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা ফাঁক ফোঁকর  ছিল সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আরো একবার বৈঠক করে পুরো সমস্যার সমাধান করা হবে।”

এদিনের কেশপুরের বিভিন্ন অঞ্চলের নেতাদের গোষ্ঠী কোন্দল মেটাতে যথেষ্ট বাদ বিতন্ডা উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয় এই বৈঠকে। বৈঠকের প্রাথমিক পর্ব সেরে শিউলি সাহা গাড়িতে উঠতে গেলেও তাকে ঘিরে বেশ কিছুটা বিক্ষোভ জটলা হয় কর্মীদের। পরে শিউলি সাহা অনেকটা ক্ষোভ উগরে এদিন বলেন, “দলের বিরুদ্ধে যারা কথা বলবেন তাদের ছেড়ে কথা বলা হবে না। একনিষ্ঠ কর্মী তাদের নিয়েই পরবর্তীকালে প্রার্থী নির্বাচন করার ক্ষেত্রে দল ভাববে। আমরা সেই দিকেই এগোচ্ছি।”

জানাগেছে, মেদিনীপুর শহরে এই বৈঠকে কেশপুর কলেজ টিএমসিপি ইউনিট ভেঙে দেওয়া হলেও পুরোপুরি সমাধান সূত্র মেলেনি। বিশেষ করে তৃণমূলের কেশপুর মাদার সংগঠন নিয়ে বিরোধ পুরোপুরি মেটেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *