কালিয়াগঞ্জে শিশুর দেহ ব্যাগে ভরে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নড়েচড়ে বসলো ব্লক প্রশাসন, অসীম দেবশর্মার পরিবারকে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে অর্ন্তভুক্তি

স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ১৬ মে: টাকার অভাবে অ্যাম্বুলেন্স না মেলায় সন্তানের মৃতদেহ ব্যাগে ভরে বাড়ি ফেরার ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্যে। অমানবিক ঘটনার নিন্দা সর্বত্র। এই পরিস্থিতিতে মৃত শিশুর বাড়িতে গেলেন জলপাইগুড়ি ঘটনার সাহায্যকারী সমাজসেবী অঙ্কুর দাস ও কাঁধে মৃতদেহ বহনকারী জয়কৃষ্ণ দেওয়ান।

উল্লেখ্য, অনেকেরই হয়তো মনে আছে, কিছুদিন আগে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার টাকা না থাকায় মৃত স্ত্রীর দেহ কাঁধে নিয়ে বাড়ির পথে হাঁটা দেওয়া জলপাইগুড়ির সেই জয়কৃষ্ণ দেওয়ানের কথা। সেদিন অসহায় দেওয়ান পরিবারকে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা দিয়ে সাহায্য করে হাজতবাস করেছিলেন জলপাইগুড়ির এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অঙ্কুর দাস। সেই ঘটনার পর আবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। এবার উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জে। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অসুস্থ শিশু পুত্রের মৃত্যুর পর টাকার অভাবে অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে জামাকাপড়ের ব্যাগে সন্তানের মৃতদেহ ভরে বাড়ি নিয়ে আসেন কালিয়াগঞ্জের মুস্তাফানগরের বাসিন্দা অসীম দেবশর্মা। টিভির পর্দায় মর্মান্তিক ও অমানবিক এই ঘটনা দেখতে পেয়ে শোর্কাত পরিবারকে সমবেদনা জানাতে মঙ্গলবার কালিয়াগঞ্জে অসীম দেবশর্মার বাড়িতে ছুটে গেলেন জয়কৃষ্ণ দেওয়ান ও অঙ্কুর দাস। ছেলে হারানোর যন্ত্রণায় শোকার্ত অসীম দেবশর্মা ও তার স্ত্রীকে সমবেদনা জানান তারা। পাশাপাশি তার কাছে সমস্ত ঘটনা শোনেন দু’জনে।

এদিকে এই ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন। কালিয়াগঞ্জ ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে গাড়ি পাঠিয়ে অসীম দেবশর্মা সহ পরিবারের লোকেদের নিয়ে গিয়ে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের ভুক্ত করা হয়। এ বিষয়ে রায়গঞ্জের মহকুমা শাসক কিংশুক মাইতি ফোনে জানিয়েছেন, “এদিন ওই পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ডেকে আনা হয়েছিলো। পরবর্তীকালে তাদের জব কার্ডও করে দেওয়া হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *