পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, ঝাড়গ্রাম, ১৪ নভেম্বর: কালীপুজোর মণ্ডপে নাচ করতে থাকা মহিলাদের মারধর করার ঘটনায় দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে পথ অবরোধ করলেন এলাকার বাসিন্দারা। ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার বিকেলে ঝাড়গ্রাম শহরের গাইঘাটা এলাকায়।

জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে গাইঘাটা এলাকার একটি কালী পুজোর মণ্ডপের বাইরে গান বাজিয়ে ঝাড়গ্রাম-মেদিনীপুর রাস্তার পাশে নাচ করছিলেন এলাকার বেশ কিছু মহিলা। সেই সময় ওই রাস্তা দিয়ে কয়েকটি বাইকে করে কিছু যুবক যাচ্ছিল। মহিলাদের দেখে তারা দাঁড়িয়ে পড়েন এবং তাদের কটুক্তি করে বলে অভিযোগ। মহিলারা প্রতিবাদ জানালে তারা চলে যায়। কিছুক্ষণ পরে প্রায় ১৫ জন যুবক হঠাৎ করে নাচতে থাকা মহিলাদের উপর চড়াও হয়। অভিযোগ, নার্সিং পড়ুয়া ১ কলেজ ছাত্রীকে ক্রিকেট খেলার উইকেট দিয়ে মারধর করা হয়। মহিলাদের চিৎকার শুনে এলাকার মানুষজন ছুটে আসেন। এলাকার মানুষজন জমায়েত হতেই ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্ত যুবকরা। একটি বাইক আটক করে এলাকার বাসিন্দারা। নার্সিং পড়ুয়া কলেজ ছাত্রী অনামিকা মাহাতোকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে ঝাড়গ্রাম গর্ভমেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গেলে হাসপাতালে ভর্তি করে নেন চিকিৎসকরা।
অনামিকা বলেন,”আমরা গান চালিয়ে মন্ডপের বাইরে নাচ করছিলাম। সেই সময় কয়েকজন যুবক এসে আমাদেরকে অকথ্য ভাষায় কটুক্তি করতে থাকে। আমরা প্রতিবাদ করলে তারা পালিয়ে যায়। পরে বিশাল দল নিয়ে এসে আমাদের উপর চড়াও হয়। আমাদের সঙ্গে নাচতে থাকা একটি দাদাকে মারধর শুরু করলে আমি ছাড়ানোর জন্য ছুটে যাই। এরপর উইকেট দিয়ে আমার পায়ে মারে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে পায়ের নিচে আঘাত
করেছে।” সোমবার মাঝরাতেই পরিবারের পক্ষ থেকে ঝাড়গ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হয়। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ খুনের চেষ্টার মামলা রুজু করে মঙ্গলবার সকালেই একজনকে গ্রেফতার করে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল অভিযুক্ত সহ সকলকে গ্রেপ্তারের দাবিতে দুপুরে ঝাড়গ্রাম-মেদিনীপুর রাস্তা অবরোধ করেন এলাকার বাসিন্দারা।

অনামিকার বাবা সুজিত মাহাতো বলেন,”ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল অভিযুক্ত সহ সকলকে যতক্ষণ পর্যন্ত না গ্রেফতার করা হচ্ছে আমরা এই পথ অবরোধ চালিয়ে যাব”। পথ অবরোধের জেরে রাস্তার দু’পাশেই দাঁড়িয়ে পড়ে ঝাড়গ্রাম-মেদিনীপুরগামী বহু গাড়ি। সমস্যায় পড়তে হয় সাধারণ মানুষজনকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ এবং ঘন্টা দুয়েক অবরোধ চলার পর পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
ঝাড়গ্রামের এসডিপিও অনিন্দ্য সুন্দর ভট্টাচার্য বলেন, “গতকাল রাতে অভিযোগ পাওয়ার পরেই তদন্ত নেমে একজনকে গ্রেফতার করা করেছে। এই ঘটনার সঙ্গে আরো কে কে জড়িত রয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে”।

