আমাদের ভারত, ৫ আগস্ট:
হরিয়ানার নুহতে হিংসায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২৫০ এরও বেশি অভিবাসীর ঝুপরি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিল হরিয়ানা সরকার। জেলা প্রশাসন এবং মুখ্যমন্ত্রী উভয়েই অভিযোগ করেছেন অভিবাসীরা এই সংঘর্ষে জড়িত রয়েছে। হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর ঝুপড়ি ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দেন।
বাংলাদেশ থেকে আসা ওই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা আগে অসমে বাস করত। বর্তমানে নুহ থেকে প্রায় কুড়ি কিলোমিটার দূরে টাউরু শহরের মোহাম্মদপুর সড়কের এক নম্বর ওয়ার্ডে হরিয়ানা আরবান অথরিটি জমিতে ঝুপড়ি তৈরি করে বসবাস করতে শুরু করেন এই অভিবাসীরা।
অভিযোগ, সরকারের প্রায় এক একর জমিতে ২৫০ টিরও বেশি ঝুপড়ি তৈরি করে গত চার বছর ধরে বসবাস করছিল তারা। বিপুল পরিমাণ পুলিশ এবং আধা সামরিক বাহিনীর উপস্থিতিতে এই বুলডোজার চালানোর পদক্ষেপটি করা হয়।
গত ৩১ জুলাই নুহতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মিছিলে হামলাকে কেন্দ্র করে হিংসা ছড়ায়। তাতে দুজন পুলিশ কর্মীসহ ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার তদন্ত সময় দেখা গেছে টাউরু এবং তার আশেপাশের এলাকা থেকে মিছিলের উপর পাথর ছোড়া হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং ঘটনার বিভিন্ন ভিডিও খতিয়ে দেখে পুলিশ সেই বাড়িগুলিকে শনাক্ত করেছে, যেখান থেকে বেশিরভাগ পাথর ছোড়া হয়েছিল।
নুহতে পঞ্চাশটিরও বেশি জায়গায় এই ধরনের বুলডোজার পদক্ষেপ করা হবে বলে খবর। দু’দিন আগেই মু্খ্যমন্ত্রী খট্টর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথের মতো হরিয়ানাতেও বুলডোজার চালানো হবে। সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর বলেছিলেন, দাঙ্গায় জড়িতদের কড়া সাজা দেওয়া হবে। ভেঙ্গে দেওয়া হবে তাদের ঘরবাড়ি। সেইমতো বুলডোজার অভিযানও চালালো প্রশাসন।
নুহতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষকে মসজিদে যেতেও নিষেধ করেছিল স্থানীয় প্রশাসন। তাদের আর্জি জানানো হয়েছিল, মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ যেনো তাদের প্রার্থনা শুক্রবার বাড়িতেই সারেন।

