জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১৭ এপ্রিল: ‘রাজ্যে তপশিলিদের বঞ্চনা করেছে, ঠকিয়েছে তৃণমূল সরকার। এই বঞ্চনার জবাব দেওয়ার সময় এসেছে। তাই চুপচাপ পদ্মে ছাপ।’ শুক্রবার দুর্গাপুর পশ্চিমে বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের সমর্থনে প্রচারে এসে ঝড় তুললেন শালতোড়ার বিজেপি প্রার্থী চন্দনা বাউরী।
উল্লেখ্য, বাঁকুড়া শালতোড়া কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী চন্দনা বাউরী পেশায় দিনমজুর। একেবারে মাটির কু্ড়েঘর থেকে উঠে আসা এক কর্মীকে প্রার্থী করায় দেশজুড়ে আলোড়ন পড়ে যায়। তার ওপর দলিত পরিবারের গৃহবধু চন্দনা। তাঁর স্বামী শ্রাবন কুমার বাউরী পেশায় রাজমিস্ত্রী। বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার জেলা সম্পাদিকা চন্দনা বাউরী।

গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দিতে না পারায় মনের মধ্যে ক্ষোভ চেপে রেখেছিলেন। এবার নিজের কেন্দ্রে ভোটদান মিটতেই রাজ্যের অন্যান্য জেলায় প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছে চন্দনা বাউরী। গত বৃহঃস্পতিবার ও শুক্রবার দুর্গাপুর পশ্চিমে বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের সমর্থনে প্রচার করছেন। দুর্গাপুর ১২ নং, ১৪ নং, ১৯ নং ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি জনসম্পর্ক করছেন। উল্লেখ্য, ওই ওয়ার্ডগুলিতে তপশিলি ও বাউরী সম্প্রদায়ের ভোট রয়েছে ৩৫-৪০ শতাংশ। প্রচারে নিজের সমাজে গিয়ে বাঁকুড়ার শালতোড়ার প্রত্যন্ত গ্রামীন এলাকায় তৃণমূল সরকার কিভাবে বঞ্চনা করেছে, সেসব তুলে ধরছেন চন্দনা। একই সঙ্গে সেখানে শান্তিপুর্ন ভোটগ্রহনের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
স্বামী শ্রাবনকে নিয়েই প্রচারে আসেন। প্রার্থী না থাকলেও চন্দনার সঙ্গে বিজেপির তপশীলি মোর্চার কর্মীরা ছিলেন। চন্দনাকে প্রচারে পেয়ে কার্যত উজ্জিবীত বিজেপির তপশীলি মোর্চা।

প্রচারের শেষে এক সাক্ষাতকারে চন্দনা বলেন, ‘পঞ্চায়েত নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা না দিতে পারার জ্বালা রয়েছে। কিভাবে তৃণমূল বাধা দিয়েছে, সন্ত্রাস করেছে, সেটা তুলে ধরছি প্রচারে। তার সঙ্গে বাঁকুড়ার মতো অনুন্নত জেলায় তৃণমূলের অনুন্নয়ন, অপশাসন, অত্যাচার আর বাউরী সমাজকে কিভাবে বঞ্চনা করেছে, ঠকিয়েছে সেটা শিল্পশহরে আমাদের সমাজে তুলে ধরছি।”
তিনি বলেন, “কেন্দ্রের গরিব মানুষদের জন্য জনমুখী প্রকল্প মমতার সরকার চালু করতে দেয়নি। বিজেপি করার অপরাধে আমার মতো বহু গরিব পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার বাড়ী থেকে বঞ্চনা করেছে। শৌচাগার, এক’শ দিনের কাজ থেকে বঞ্চনা করেছে। তাই লক্ষ্য একটাই, তৃণমূলকে রাজ্য থেকে উপড়ে ফেলতে হবে।চুপচাপ পদ্মে ছাপ।”

