প্রতীতি ঘোষ, ব্যারাকপুর, ১৬ নভেম্বর: বোমাবাজিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠল নোয়াপাড়া থানা অন্তর্গত নিউলাইট সিনেমা হলের পাশে উমেশচন্দ্র ব্যানার্জি লেন এর একটি ফ্ল্যাট চত্বর। দিনের আলোয় প্রকাশ্যে ফ্লাট তৈরি করার সময় কর্মীদের লক্ষ্য করে পরপর পাঁচটি বোমা মারা হয় বলে অভিযোগ। আর এই ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে নিউ লাইট সিনেমা হলের পাশে উমেশচন্দ্র ব্যানার্জি লেনের পাশে ওই ফ্ল্যাটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফ্লাট তৈরি করাকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটিয়েছে দুষ্কৃতীরা। কাঠের গুঁড়ো ভর্তি একটি ব্যাগে করে বোমা নিয়ে এসেছিল দুষ্কৃতীরা। তারপর ওই ফ্ল্যাটে যারা কাজ করছিল তাদের লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ে দুষ্কৃতীরা। দুষ্কৃতীদের বোমার আঘাতে তিনজন মারাত্মকভাবে জখম হন। রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন আহত কর্মীরা। বোমার আওয়াজ পেয়ে ছুটে আসে এলাকাবাসী। তারাই আহত কর্মীদের উদ্ধার করে ব্যারাকপুর বি এন বোস হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে ওই আহত কর্মীদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে চিকিৎসক আরজিকর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে বলে জানা যায়।
এই ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। খবর পেয়ে নোয়াপাড়া থানার বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তদন্ত শুরু করেছে। কে বা কারা কি উদ্দেশ্যে এই বোমাবাজির ঘটনা ঘটল তা স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। তবে স্থানীয়দের প্রাথমিক অনুমান এই ফ্ল্যাট তৈরি করার আগে যখন মাটি ভরাট করার কাজ চলছিল তখনও বোমাবাজির ঘটনা ঘটেছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তোলাবাজি বা প্রোমোটাররাজ এই বোমা বাজির পিছনে জড়িত থাকতে পারে। আতঙ্কিত এলাকাবাসী জানায়, “এই এলাকাটিতে কোনও অশান্তি ছিল না। আমরা সবাই মিলেমিশে চলি। এখানে বাচ্চারা খেলা করত। কিন্তু এই ঘটনায় এতটাই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে যে কি করে আমরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরব বুঝতে পারছি না। তবে যবে থেকে এই ফ্ল্যাট টা তৈরি হওয়া শুরু হয়েছে তবে থেকেই বোমাবাজি আর গণ্ডগোল শুরু হয়েছে।” অপর দিকে এই ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে আসে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তারা এর বিরোধিতা করে বলেন, উত্তর ব্যারাকপুর পৌর এলাকার কোথাও আমরা তোলা বাজি বরদাস্ত করব না। আর তোলাবাজি র কারনে এই বোমা মারার ঘটনা ঘটেছে। তবে যে দুষ্কৃতীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি আমরা।”
তবে এই গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে নোয়াপাড়া থানার পুলিশ।

