সুশান্ত ঘোষ, বারাসাত, ১০ মে: জেলা জুড়ে মৃত্যুর মিছিল আর চারিদিকে সজনহারা
কান্নার শব্দ। এমন এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে চলেছি আমরা। ঠিক সেই সময় করোনা রোগীদের পাশে দাঁড়ালেন বারসতের মা ও মেয়ে। যারা পরকে আপন করে নিয়ে এই পরিস্থিতিতে সংক্রমণের ভয় দূরে ঠেলে
মানবসেবায় ব্রতী হয়েছেন।
শুভ্রা মুখোপাধ্যায় ও ঋদ্ধি ভট্টাচার্য। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের নবপল্লির বাসিন্দা। পেশায় হাইস্কুলের শিক্ষিকা শুভ্রাদেবী ও তাঁর মেয়ে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্রী ঋদ্ধি মিলে করোনা আক্রান্তদের বাড়ি বাড়ি দু’বেলা খাবার পৌঁছে
দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। করোনায় আক্রান্ত হয়েছে শুনলেই দূরত্ব বাড়িয়ে নিচ্ছেন প্রতিবেশী থেকে
আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব। ফলে দু’বেলা খাবারের ব্যবস্থা করতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে করোনা রোগীদের।ঘটনার কথা জানতেই তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন শুভ্রাদেবী। মা ও মেয়ে মিলে বাড়িতে রান্না করে করোনা রোগীদের
বাড়িতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করেছেন। সাত দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেছে তাঁদের এই উদ্যোগ।

এখন কুড়ি জনেরও বেশি করোনা আক্রান্ত রোগীর বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছেন
তাঁরা। তাঁদের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার
রিপোর্ট পাঠিয়ে আবেদন করলেই পরদিন থেকেই বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছে খাবার। মূলত বারাসত পুরসভার এলাকার করোনা আক্রান্তদের পাশে থাকতেই তাঁদের এই উদ্যোগ। মা-মেয়ের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে তাঁদের পাশে
দাঁড়িয়েছেন ঋদ্ধির বাবা প্রতীপশংকর ভট্টাচার্য।

