বাঁশবেড়িয়ায় প্রাক্তন বোর্ডের দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বাড়ি বাড়ি প্রচার করছে বিজেপি ও বামেরা

আমাদের ভারত, হুগলি, ২০ ফেব্রুয়ারি: পুরভোটে সরগরম বাঁশবেশিয়া পুরসভা। এই পুরসভায় এবার ত্রিমুখী লড়াই হতে চলেছে। স্বাভাবিক ভাবেই পুরসভা দখলের লড়াইতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে বাম, বিজেপি ও তৃণমূল। 

বাঁশবেড়িয়া  পুরসভায় মোট বাইশটা 
ওয়ার্ড। ২০১৫ সালে এই পুরসভায় 
১৭টা আসন পেয়েছিল তৃণমূল। নির্দল ২টো আসন পেয়েছিল। বিজেপি একটি আসন। সিপিএম একটি ও ফরয়ার্ড ব্লক একটি করে আসন পেয়েছিল। পরে  অবশ্য নির্দল প্রার্থীরা তৃণমূলে যোগ দেন।সেই হিসেবে তৃণমূলের মোট আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ১৯।

এবার তৃণমূলের নতুন মুখ ১০। তার মধ্যে  পুরুষ ৫ জন। মহিলা ৫ জন। পুরসভায়  ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার কারনে  প্রাক্তন পুরপ্রধান অরিজিতা শীল এবার   টিকিট পাননি। চলতি পুরভোটে বাঁশবেড়িয়া পুরসভায় তৃণমূলের কোনও  নির্দল কাঁটা  নেই। কোনও ক্ষোভ বিক্ষোভও নেই।

লোকসভা ভোটের নিরিখে বাঁশবেড়িয়া 
পুরসভায়  ৩টে ওয়ার্ডে তৃণমূল এগিয়েছিল। ১৮টা ওয়ার্ডে বিজেপি এগিয়েছিল। বিধানসভা ভোটের নিরিখে সেই চিত্র 
পালটে যায়। ২২টা ওয়ার্ডের মধ্যে  ৮টা ওয়ার্ডেই এগিয়ে যায় তৃণমূল।১৪টা  ওয়ার্ডে এগিয়ে বিজেপি।

কেন এবার পুরভোটে মানুষ তৃণমূলকে 
ভোট দেবেন? এই প্রশ্নের উত্তরে পুরসভার বিদায়ী পুরপ্রধান ও উপ পুরপ্রধান আদিত্য নিয়োগী ও অমিত ঘোষ একযোগে বলেন, বাঁশবেড়িয়া পুরসভা জুড়ে ব্যাপক  উন্নয়ন হয়েছে। বিগ বাজেটের একাধিক  প্রকল্পে কাজ হয়েছে। সেগুলি হল ৭৫ কোটি টাকার আম্রুট প্রকল্পে প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। এরফলে পুরসভার ২২টা ওয়ার্ডে জল সরবরাহ হবে।৮টি নতুন রিজার্ভার ও পাইপ লাইনের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে।

৩ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকায় ত্রিবেনী ঘাটের সৌন্দর্যায়ন ও আধুনিকীকরণের কাজ শুরু হয়েছে। ৩ কোটি ১৮ লক্ষ টাকায় সাহাগঞ্জ হালিশহরের মধ্যে ফেরি সার্ভিসের জন্যে পরিবহন দফতরের তত্তাবধানে পল্টন জেটির কাজ শুরু হয়েছে।

ভবঘুরেদের জন্যে রাজ্য সরকারের প্রকল্প সুডার অধিনে সাহাগঞ্জ ৯ নম্বর গলিতে আবাসন তৈরির টেন্ডার হয়ে গিয়েছে।

বিদায়ী উপ পুরপ্রধান অমিত ঘোষ বলেন, পুরসভা এলাকায় দুটো প্রাথমিক স্বাস্থকেন্দ্র তৈরি হয়েছে। সেখান থেকেই শহরের মানুষ সমস্ত চিকিৎসা পরিষেবা পান। শহরের ৭০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ড্রেন তৈরি হয়েছে। ৮০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে রাস্তা তৈরি হয়েছে। শহর জুড়ে ৮ হাজার লাইট লাগানো হয়েছে। ১৩৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পাইপ লাইন বসানো হয়েছে।

পুরসভার বিদায়ী পুরপ্রধান আদিত্য নিয়োগী বলেন, আমরা বাঁশবেড়িয়াতে ৫১ বেডের একটি হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনা করেছি। সেখানে নার্সিং ট্রেনিং কলেজ করার চিন্তা ভাবনা নিয়েছি।

বাঁশবেড়িয়া পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের 
বিজেপি প্রার্থী জয়রাজ পাল বলেন,  তৃণমূলকে মানুষ ভোট দেবে না। মানুষ ভোট দেবে বিজেপিকে। কারন, এই কয়েক  বছরে তৃণমূল বাঁশবেড়িয়া পুরসভায় 
একাধিক দুর্নীতি করেছে। তারমধ্যে জল প্রকল্পে চরম দূর্নীতি করেছে। পুরসভায়   হাউজ ফর অল প্রকল্পে ব্যাপক কাটমানি খাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। প্রচারে বেড়িয়ে দেখতে পাচ্ছি, শহর জুড়ে পুর-পরিষেবার হাল বেহাল। বিগত কয়েক বছরে শহরের রাস্তায় রিপিয়ারিং কাজ ছাড়া কিছুই হয়নি।

বাঁশবেড়িয়া পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সিপিএম প্রার্থী অনির্বান সরকার বলেন, মানুষ তৃণমূলকে ভোট দেবে না। কারন, পুরসভায় একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। আমরা বলছি না, বর্তমানে পুরসভার পুরপ্রশাসক নিজেই এই দুর্নীতি নিয়ে থানায় অভিযোগ করেছেন।শহর জুড়ে পুর-পরিষেবার হাল বেহাল। বিগত কয়েক বছরে শহরের রাস্তায় রিপিয়ারিংয়ের কাজ ছাড়া কিছুই হয়নি। উন্নয়নের নামে একাধিক প্রকল্প থেকে কাটমানি নেওয়া বহু অভিযোগ রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *