বাঁকুড়ায় শতবর্ষ প্রাচীন গোশালা পরিচালনায় মেলেনি সরকারি সাহায্য, ক্ষুব্ধ পরিচালন সমিতি সদস্য ও সাধারণ মানুষ

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১৯ ডিসেম্বর: গো- জাতির সেবা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নির্মিত বাঁকুড়া এক্তেশ্বর গোশালা একশো কুড়ি বছর অতিক্রম করলেও মেলেনি কোনও সরকারি সাহায্য। এমনকি মেলেনি কোনও সরকারি সহযোগিতাও। স্বাভাবিক ভাবেই ক্ষোভ দেখা দিয়েছে পরিচালন সমিতি সহ সাধারণ মানুষের মধ্যে।

বাঁকুড়া শহর লাগোয়া কেশিয়াকোলে নির্মিত হয় এক্তেশ্বর গোশালা। মূলতঃ দানকরা গরু, গো পালনে অক্ষম গৃহস্থ বাড়ির গরু, বেওয়ারিশ গরুদের ঠাঁই হয় এই গোশালায়। এক কথায় গরুদের বৃদ্ধাশ্রম বলা যায় এই গোশালাকে। সাধারণ মানুষের অনুদান থেকেই চলে এই গোশালা। প্রাচীন ভারতে গো সম্পদকে বিশেষ সম্পদ হিসাবে মান্যতা দেওয়া হতো।বর্তমান সমাজ ব্যবস্থাতেও নিরীহ এই পশু জাতির গুরুত্ব অপরিসীম। বাস্তুতন্ত্রে ও কৃষিকাজেও গো- জাতির বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। অথচ এই গুরুর দায়িত্ব পালন করে আসলেও সরকারি তরফে রাজ্য সরকার বা কেন্দ্রীয় সরকার কারোর কোনো সহায্য ও সহযোগিতা মেলেনি। এই গোশালার কাজ বজায় রাখতে যে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন তার সিংহভাগ বহন করেন মূলতঃ মারোয়াড়ি, গুজরাটি সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ।এছাড়াও এই কাজে স্থানীয় কিছু বাঙালি সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন।

বর্তমানে গোশালায় ২৮৯টি গরু রয়েছে। যার দৈনিক ব্যয় প্রায় আঠারো হাজার টাকা।দুধ ও গোবর বিক্রি করে দৈনিক ব্যায় কিছুটা মেটানোর পর দৈনিক প্রায় দশ হাজার টাকা ঘাটতি হয়। সে ঘাটতি পূরণ হয় অনুদানের টাকায়। গরু পরিচর্যা- সহ নানান কাজের জন্য কিছু কর্মী রয়েছেন। এছাড়াও রয়েছেন পশু চিকিৎসক। গোশালা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য গঠিত হয়েছে বাঁকুড়া শ্রী এক্তেশ্বর গোশালা সোসাইটি।

সোসাইটির সম্পাদক কিশোর মুরারকা বলেন, বিপুল বোঝা নিয়ে গোশালা পরিচালনা করতে হয়। বেশ কিছু মানুষ, ব্যবসায়ী রয়েছেন যারা নিয়মিত সহযোগিতা করেন।কেউ নগদ টাকা দিয়ে, কেউ গোখাদ্য দিয়ে সাহায্য করেন।কিন্তু কোনও সরকারি সাহায্য পাইনি। রাজ্য বা কেন্দ্র, কোনো সরকারেরই এ বিষয়ে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। এমনকি স্হানীয় ব্লক অফিসে গিয়ে গরুগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধের জন্য আবেদন করি।কিন্তু কেউ সাড়া দেয়নি।

পরিচালন সমিতির এক সদস্য ক্ষোভের সঙ্গে জানান, কোনও প্রকার সরকারি সাহায্য ছাড়াই যখন এই
সেবামূলক প্রতিষ্ঠান একশো কুড়ি বছর পেরিয়ে গেলো আশা করছি এভাবেই যুগ যুগ ধরে চলবে। এটা আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *