বালুরঘাটে গৃহ শিক্ষিকার বাবার লালসার শিকার খুদে পড়ুয়া! ব্যাপক ভাঙ্গচুর, তৃণমূল কাউন্সিলরের সামনেই বেধড়ক মারধর

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৯ ফেব্রুয়ারি: টিউশন পড়তে গিয়ে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী যৌন হেনস্তার শিকার। প্রতিবাদে ভাঙ্গচুর বাড়িঘর। এলাকার তৃণমূল কাউন্সিলরের সামনেই রক্তাক্ত করা হল অভিযুক্ত অরূপ মহন্তকে। বুধবার গভীর রাতে এই ঘটনা ঘিরে তুমুল উত্তেজনা বালুরঘাট শহরের সাত নম্বর ওয়ার্ডের মাস্টার পাড়া এলাকায়।

জানা গেছে, শহরের সাত নম্বর ওয়ার্ডের মঙ্গলপুর মাস্টারপাড়া এলাকার বাসিন্দা তথা অভিযুক্ত অরূপ মহন্ত। পেশায় গাড়ি চালক অরূপ বুধবার সন্ধ্যায় বাড়িতেই ছিলেন। মেয়ে অনুশ্রী মহন্তর কাছে ওইদিন সন্ধ্যায় রোজকার মতো পড়তে এসেছিল চতুর্থ শ্রেণির ওই বালিকা। ছাত্রীকে ঘরে একা পড়তে দিয়ে বাড়ি থেকে সামান্য দূরে একটি দোকানে গিয়েছিলেন দিদিমণি অনুশ্রী। সেই সময় বাড়িতে ছিলেন তার বাবা অরূপ। অভিযোগ ওই ছাত্রীকে সেসময় একা পেয়ে দিদিমনির বাবা যৌন নির্যাতন চালায়। এরপর বাড়ি গিয়ে ওই খুদে পড়ুয়া তার মাকে গিয়ে সব কথা বলতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ছুটে আসে এলাকার তৃণমূল কাউন্সিলরও। তাঁর উপস্থিতিতেই অভিযুক্তর বাড়িতে ব্যাপক ভাঙ্গচুর চালায় উত্তেজিতরা। বাড়িঘর ভেঙ্গে তছনছ করা হয়েছে। বেধড়ক মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়েছে অভিযুক্ত অরূপ মোহন্তকে। এরপরেই এই ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছে বালুরঘাট থানার পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযুক্ত অরূপ মহন্তকে। ঘটনা জানিয়ে বালুরঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই কিশোরীর পরিবার। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন কিশোরীর বাবা ও মা। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বালুরঘাট সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল চিকিৎসাধীন রয়েছে অভিযুক্ত ব্যক্তি।

প্রতিবেশী আঙুর মহন্ত ও শুক্লা সাহারা বলেন, অন্যায় করলে আইনগতভাবে তার শাস্তি কাম্য। কিন্তু তৃণমূল কাউন্সিলরের সামনেই কিছু লোকজন যেভাবে তার বাড়িঘর ভাঙ্গচুর করে তছনছ করেছে তা কাম্য নয়।

অভিযুক্ত ব্যক্তির স্ত্রী ও তার মেয়ে বলেন, বাবা যদি অন্যায় করে তার জন্য পুলিশ ও আইন রয়েছে। আইন অনুযায়ী তার বিচার হোক। কিন্তু এভাবে তাদের বাড়িঘর কেন ভাঙ্গচুর করা হবে।

কিশোরীর মা জানিয়েছেন, দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে দিদিমণি অনুশ্রীর কাছে পড়ছিল তার মেয়ে। কিন্তু গতকাল সন্ধ্যায় তার ছোট্ট মেয়েকে যৌন হেনস্তা ও ধর্ষণ করার চেষ্টা করেছে দিদিমণির বাবা। মেয়ে বাড়িতে এসে শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করে। যার কারণ জানতে চাই, তাতেই সমস্ত ঘটনা সে জানিয়েছে। তারা চান অভিযুক্তর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।

এদিকে এই ঘটনার লিখিত অভিযোগ পেয়ে মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বালুরঘাট থানার পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *