পেট্রাপোল সীমান্তে অমর ২১শে দুই বাংলার মেলবন্ধন

সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২১ ফেব্রুয়ারি: ২১শে ফেব্রুয়ারি ওপার বাংলার পাশাপাশি এপার বাংলাতেও যথাযোগ্য শ্রদ্ধা ও সন্মানের সঙ্গে পালিত হয় এই দিনটি।পেট্রাপোল আন্তর্জাতিক সীমান্তে এই দিন দুই বাংলার মানুষ তাদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন ভাষা শহিদদের উদ্দেশ্যে।গানে কবিতায় ভরে ওঠে
গোটা চত্বর। কলকাতার বহু স্বনামধন্য
শিল্পী অংশ নেন এই মিলন
উৎসবে। এপার বাংলা- ওপার বাংলার নারী পুরুষ সমবেত ভাবে অংশ নেন গান ও কবিতা পাঠে। সমবেত ভাবে উলুধ্বনি দিয়ে তারা সামিল হন প্রাণের ভাষার 
উদযাপনে।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের মন্ত্রী 
স্বপন ভট্টাচার্য, সাংসদ সফিরউদ্দিন।এছাড়া বনগাঁ পৌরসভার প্রশাসনিক শঙ্কর আঢ্য, 
গোপাল শেঠ সহ দুই দেশের প্রশাসনিক কর্তা 
ব্যক্তিরা। এদিন বাংলাদেশ থেকে কবি
সাহিত্যক সহ ১০০ জনের
প্রতিনিধি দল জিরো পয়েন্টে আসে। দুই দেশের প্রাশাসক দলের মধ্যে ফুল, 
মিষ্টি বিনিময় করে।এরপর ভারতীয় মঞ্চে 
আসেন। শুরু হয় বিভিন্ন সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
রবিবার সকাল থেকে 
মুখর ছিল পেট্রাপোল সীমান্ত। গান, আবৃত্তি, নাচ আর
দুই বাংলার কবি সাহিত্যিক শিল্পী রাজনীতিবিদদের 
পদচারণায়। কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও ভাষার টানে কয়েক
 ঘণ্টার জন্য উধাও হয়ে যায় সীমান্তের 
কাঁটাতার। দুই বাংলার মানুষ মেতে ওঠে 
আড্ডা আর স্মৃতিচারণে। এদিন ভাষা দিবসের অনুষ্ঠান
দেখতে প্রচুর মানুষের সমাগম হয়। ২০২১ এর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা 
দিবসের থিম সমাজ ও শিক্ষার 
একাত্মকরণের জন্য বহু ভাষাবাদের প্রসার।করোনা অতিমারির আবহে এবার ম্লান হতে 
চলেছে অমর একুশে। 

বনগাঁ পুরসভার পুরপ্রশাসক শঙ্কর আঢ্য জানান, ‘ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা-পদ্মা ভাষা ও মৈত্রী সমিতি’র উদ্যোগে 
২০০২ সালে ভাষা শহিদ ও আন্তর্জাতিক
মাতৃভাষা দিবসে দুই দেশের প্রায় ২০টি সংগঠনের অংশগ্রহণে এই মিলন মেলার সূচনা হয়। গত ১৯ বছরে এই আয়োজনের পরিধি আরও বেড়েছে। বনগাঁর কিছু সাংস্কৃতিক কর্মী ‘একুশে উদযাপন কমিটি’ গড়ে সীমান্তের শূন্য রেখায় একসঙ্গে মাতৃভাষা দিবস পালন শুরু করেন। সেই থেকে প্রতি বছরই এ দিনে
খুলে যায় সীমান্তের ফটক, দুই বাংলার মিলনমেলা বসে সেখানে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *