রাজেন রায়, কলকাতা, ৩১ আগস্ট: বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে একের পর এক নতুন নতুন বয়ফ্রেন্ড ঢুকিয়ে চলত অশালীন কাজকর্ম। আনন্দপুরের নোনাডাঙা রেল কলোনিতে এক যুবতীর বিরুদ্ধে এমনই মারাত্মক অভিযোগ এনেছিলেন তার প্রতিবেশীরা। পেশায় বাসচালক গৌতম মিত্রের মেয়ের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনে তার বাবা-মাকে মঙ্গলবার সকালে জানাতে গিয়েছিলেন প্রতিবেশীরা। কিন্তু আচমকাই ঘর থেকে ছুটে আসা অ্যাসিডের বোতল ঝলসে দিল তাদের।
প্রতিবেশীদের বয়ান অনুযায়ী, গৌতম মিত্রের মেয়ে ফাঁকা বাড়িতে ছেলে ঢোকান। বাবা-মা যখন বাড়িতে থাকেন না, তখন তাঁর বয়ফ্রেন্ডদের ঘরে ঢুকিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অশালীন কাজকর্ম করেন। ওই পাড়াতেই প্রত্যেক বাড়িতে অল্প বয়সী ছেলে-মেয়েরা রয়েছে। গৌতম মিত্রের মেয়ের কাজে তাদের ওপরেও খারাপ প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ প্রতিবেশীদের। গত কয়েক দিন ধরে অনবরত এই কাজ চলছে। মঙ্গলবার সকালে বাড়িতে ছিলেন গৌতম মিত্র ও তাঁর স্ত্রী। প্রতিবেশীর স্বপ্না মণ্ডল গৌতম মিত্রের সঙ্গে কথা বলতে যান। অভিযোগ, গৌতম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা কোনও কথা না শুনেই ঝামেলা করতে থাকেন। বচসা চলাকালীনই বাড়ির গেটের সামনে ভিতর থেকে তরল জাতীয় কিছু ছুড়ে ফেলা হয় তাঁদের গায়ে। হাত-পা জ্বলতে থাকে তাঁদের, ঝলসে যায় চামড়া। প্রতিবেশীদের অভিযোগ, অ্যাসিড ছুড়েই মারা হয়েছে তাঁদের।
অ্যাসিড হামলায় আহত হয়েছেন চার প্রতিবেশী। তাঁরাই গুরুতর জখম হন। তাঁদের অবস্থা গুরুতর। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। আক্রান্ত চার জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এক প্রতিবেশীর কথায়, “আমরা কিন্তু বিষয়টা বোঝাতে গিয়েছিলাম। পাড়ার প্রত্যেক বাড়িতে বাচ্চা রয়েছে। এইভাবে ঘরে ছেলে ঢোকালে প্রত্যেকের মনে খারাপটাই আসবে আগে! আমরা মেয়ের কাজ সম্পর্কে তাঁর বাবা-মাকে সচেতন করতে গিয়েছিলাম। মেয়ে যাতে ভুল পথে চলে না যায়। কিন্তু আমাদের কোনও কথা তো শোনেননি উল্টে ঘরের ভিতর থেকে অ্যাসিড ছুড়ে মারা হয়।” আক্রান্তদের মধ্যে তিন জন মহিলা, এক জন পুরুষ। তিন মহিলার পিঠে অ্যাসিড লাগে, আরেক জনের চোখে অ্যাসিড ছিটকে লাগে বলে অভিযোগ।

