লকডাউনে নির্বিচারে বেআইনীভাবে পুকুর ভরাট চলছে পানাগড়ে

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২৩ মে: করোনার সংক্রামণ রুখতে চলছে লকডাউন। আর এই লকডাউনের সুযোগে নির্বিচারে চলছে পুকুর ভরাট। দিন দুপুরে রাস্তার পাশে ছাই, মাটি ফেলে অবাধে চলছে পুকুর ভরাট। ভুমি রাজস্ব দফতরে অভিযোগ জানিয়েও কাজ হয়নি। ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী। প্রশ্ন উঠেছে, ভুমি রাজস্ব দফতরের ভুমিকায়। নজিরবীহিন ঘটনাটি ঘটেছে পানাগড় বাজার দার্জিলিং মোড় সংলগ্ন এলাকায়।এই পুকুর ভারাটের জেরে ওষ্ঠাগত প্রাণ বাসিন্দাদের।

পানাগড় বাজারে পুরোনো জিটি রোড লাগোয়া পুকুরটি। শুধু এই পুকুর নয়, কাঁকসার প্রয়াগপুর মৌজায় রাস্তার পাশে একাধিক পুকুর ভরাট করা হচ্ছে। বৃহঃস্পতিবার প্রয়াগপুর মৌজার দাগ নং ৫২৩ র প্রায় ৯৯ শতকের একটি পুকুর ভরাট কাজ শুরু হয়। ৩-৪ টি ডাম্পারে মাটি দিয়ে ভরাটের কাজ শুরু করে। একইরকমভাবে রাস্তার ঠিক উল্টোদিকে প্রায় সাড়ে ৩ বিঘার পুকুরটি রাতের অন্ধকারে চলছে ছাই, মাটি দিয়ে ভরাটের কাজ হয়েছে। গত কয়েকদিন শুধু ওই এলাকায় তিনটি পুকুর ভরাট হয়েছে।

এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে গ্রামবাসীরা। ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্ষায় ওই সব পুকুরে এলাকার নিকাশী জল জমা হয় এবং ওই পুকুরে জল থাকার ফলে এলাকার নলকুপের জলস্তর নাগালের মধ্যে থাকে এবং জলকস্ট হয় না। এভাবে পুকুর ভরাট হলে ভুগর্ভস্ত জলস্তর নীচে নামবে এবং জলের হাহাকার দেখা দেবে। তাই পুকুর ভরাট বন্ধ হোক।

পানাগড় বনদফতরের রেঞ্জ অফিস লাগোয়া বহু প্রাচীন ওই পুকুরটিতে যেমন মাছ চাষ হয়, তেমনই বর্ষায় আশপাশের বাসিন্দাদের নিকাশী জল এসে পড়ে ওই পুকুরে।

প্রসঙ্গত, ১৯৫৫ সালের রাজ্য ভুমি সংস্কার আইন অনুযায়ী পুকুর ভরাট করলে ৪( সি) আইনের ধারা লঙ্ঘিত যেমন হয়। তেমনই ৪(ডি) আইনের ধারা অনুযায়ী ৩বছরের জেল অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা। আবার দুটোয় শাস্তি হতে পারে। এতদ স্বত্বেও এখন প্রশ্ন উঠেছে, যেখানে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে যেখানে জল ধরো জল ভরো প্রকল্প করেছেন সেখানে কিভাবে চলছে অবৈধভাবে পুকুর ভরাট?

স্থানীয় বাসিন্দা প্রকাশ দাস জানান, “বছর খানেক আগে পুকুরটি ভরাটের উদ্যোগ নিয়েছিল। তখনও একই রকমভাবে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং কাঁকসা বিএলআরওকে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। কিন্তু কাজ কিছুই হয়নি। লকডাউনের সুযোগে এখন আবারও ভরাটের কাজ শুরু হয়েছে। আর একটা পুকুর ভরাট করে গ্যারেজ তৈরী হয়েছে।”

বিজেপি নেতা দীপ্তাংশু চৌধুরী জানান, “স্থানীয় শাসকদলের মদতে গোটা কাঁকসা জুড়ে একাধিক পুকুর ভরাট চলছে। পুকুর ভরাট করে প্রমেটারি চলছে। প্রশাসন নীরব। এভাবে পুকুর ভরাটের জেরে আগামীদিনে চরম জলসঙ্কটে পড়বে শিল্পাঞ্চল। তাই তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। স্থানীয় তৃণমূলের কাঁকসা ব্লক সভাপতি দেবদাস বক্সী জানান, “পুকুর ভরাট কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। অভিযোগ পেলে আইনী ব্যাবস্থা নেবে বর্তমান সরকার।” কাঁকসা বিডিও সুদীপ্ত ভট্টাচার্য জানান, “এখনও কোনও অভিযোগ আসেনি। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।”  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *