মন ভালো হবেই হবে! পুজোর আগেই বাঙালির পাত আলো করবে ইলিশ, আসছে গতবারের দ্বিগুণেরও বেশি, পুজোর উপহার বাংলাদেশ সরকারের

শ্রীরূপা চক্রবর্তী,আমাদের ভারত, ২০ সেপ্টেম্বর: বাঙালির দুর্গাপুজোর পেট-পুজোটা ইলিশ ছাড়া অসম্পূর্ণ। কিন্তু গোটা বর্ষাকাল জুড়ে শুধুই ইলিশের আকাল দেখেছে রাজ্যের বাঙালি। বৃষ্টি ভালো হলেও জালে ধরা পড়েনি রুপোলী ফসল। ফলে স্যাঁতেস্যাঁতে বর্ষায় খিচুড়ির সাথে ভাজা ইলিশের কম্বিনেশন বাঙালি এবার বড্ড মিস করেছে। কিন্তু না আর না। পুজোর বাজারে বাংলাদেশের ইলিশে জমজমাট হবে বাঙালির রসনা।

শরতের আকাশে পেঁজা তুলোর ভেলা, মাঠে কাশের দোলা, সবটা মিলে পুজো পুজো গন্ধ চারিদিকে ইতিমধ্যেই ছড়িয়েছে। তার সঙ্গে ভাপা ইলিশ কিংবা ইলিশ পোলাও দুয়ের মেলবন্ধনে পুজোটা জাস্ট জমে যাবে। কারণ বাঙালির পুজোর পাতে রাজত্ব করতে ইলিশ এবার আসছে বাংলাদেশ থেকে। গতবারও এসেছিল তবে এবার আসছে গতবারের দ্বিগুণেরও বেশি।

এরাজ্যের বাঙালির ইলিশ তৃপ্তির হাসি ঠোঁটে ফোটাতে প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রকের ছাড়পত্র। সোমবার সেই ছাড়পত্র মেলায় বেজায় খুশি মাছ ব্যবসায়ীরা। পুজোর বাঙালির পাতে কনফার্ম হলো ইলিশের আগমন বার্তা।

গত বছরের মতো এবছরও ইলিশ রপ্তানিতে ছাড়পত্র দিয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার থেকেই ওপার বাংলা থেকে এপার বাংলায় ইলিশের আমদানি শুরু হবে। আগামী ১০ অক্টোবর পর্যন্ত এই আমদানি চলবে অর্থাৎ পুজোর দোড়গোড়া পর্যন্ত ইলিশ পাওয়া যাবে বাংলাদেশ থেকে। প্রতিদিন ১০০ থেকে ২০০ মেট্রিক টন ইলিশের আমদানি হবে বাংলাদেশ থেকে। মোট ২০৮০ মেট্রিক টন বাংলাদেশি ইলিশ এবার রাজত্ব করবে পশ্চিমবঙ্গের মাছ বাজারে। আগেরবারের থেকে অনেক বেশি পরিমাণে এবার ইলিশ আসছে রাজ্যে। আগেরবার এসেছিল ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ। এবার সেটা বাড়িয়ে ২০৮০ মেট্রিক টনের কাছাকাছি ইলিশ আসছে।

ফলে ইলিশের আশায় বাজারে গিয়ে বাঙালিকে অন্তত অন্য মাছ নিয়ে বাজার থেকে ফিরতে হবে না। তবে এখন দেখার মাছের ঘাটতি মিটলেও দাম কোন জায়গায় গিয়ে দাঁড়ায়।

ভাপা ইলিশ, ইলিশ পাতুরি, দই ইলিশ, কিংবা ফিউশনের ইলিশ বিরিয়ানি এবছর বাঙালির স্বাদের ইলিশ আটকে ছিল রান্নার খাতাতেই, বরফে রাখা ইলিশ কিংবা ছোট ইলিশের স্বাদে মন ভরেনি বাঙালির। কিন্তু পুজোর আগে বাংলাদেশের ইলিশ রাজ্যে ঢোকার এই খবরে যে বাঙালির মনটা ভালো হবেই সেটা বলার আর অপেক্ষা রাখে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *