আমাদের ভারত, ১১ এপ্রিল: কাঁঠালের আমসত্ব হলে, সোনার পাথরবাটি হলে তবেই তৃণমূল জাতীয় দল। কাক পেখম লাগালেই ময়ূর হতে পারে না। মঙ্গলবার দুর্গাপুরে দুর্নীতি বিরোধী সভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় দলের তকমা হারানো নিয়ে এইভাবে কটাক্ষ করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।
মঙ্গলবার দুর্গাপুরে সিটি সেন্টারে বিজেপি একটি বড় মিছিল করে। সেই মিছিলে পা মেলান বিজেপির রাজ্য সভাপতি। এরপর দলের সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হন তিনি। রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে বিজেপির অন্যতম হাতিয়ার এখন দুর্নীতি। আজকেও সুকান্ত মজুমদারকে দেখা গেল দুর্গাপুরে পৌরসভার দুর্নীতি নিয়ে সরব হতে। তিনি বলেন, “ছয়মাস পার হয়ে গেলেও ডিএমসির
(দুর্গাপুর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন) নির্বাচন হয়নি। এক কাউন্সিলরের কাউন্সিলর পদ চলে যাওয়ার পর সে নিজে গিয়ে মিউন্সিপ্যালিটিতে চাকরি নিয়েছেন।” অর্থাৎ দুর্গাপুরেও পৌরসভায় চাকরিতে নিয়োগ দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ করলেন সুকান্ত। এমনকি পৌরসভা থেকে কুকুরের ভ্যাকসিন চুরি হয়েছে বলে জানান তিনি। কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “কুকুরের ভ্যাকসিন চুরি করে খাচ্ছে চোরেরা। রাস্তার তৃণমূলে নেতারা ঘুরলে আর কুকুরে কামড়ে দিলে কুকুরের কোনো দোষ থাকবে না। তৃণমূলের নেতাদের দোষ থাকবে। আসলে এরা জানে আজ না হয় কাল কুকুর কামড়াবে তাই আগে থেকেই ভ্যাকসিন লুকিয়ে রাখছে।”
এদিনের সভা থেকে তৃণমূল নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন সুকান্ত। কয়লা পাচার কাণ্ডে সিবিআইয়ের খাতায় ইতিমধ্যেই মলয় ঘটকের নাম উঠে গেছে। মলয় ঘটককে কয়লা ঘটক বলে আক্রমণ শানান সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, “কয়লা ঘটকের নামে এই জেলাকে এখন চেনা হয়। সিবিআইয়ের ডাক পেয়েছে কিন্তু ঘটক বলছে যাব না। কিন্তু দিল্লিতে আজ না হয় কাল কয়লা ঘটককে যেতেই হবে।” এপ্রসঙ্গে তিনি কেষ্টর কথা মন করিয়ে বলেন, অনুব্রত বলেছিলেন দিদি যেদিন দিল্লিতে শপথ নেবেন সেদিন দিল্লি যাব। কিন্তু তার আগেই আমরা পাঠিয়ে দিয়েছি দিল্লি, দিদি কোনো দিন শপথ নিতেও পারবেন না দিল্লিতে।
এরপরেই তৃণমূলের জাতীয় দলের তকমা হারানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কাঁঠালের যদি আমসত্ত্ব হয়, সোনার যদি পাথর বাটি হয় তাহলে তৃণমূল কংগ্রেসও সর্বভারতীয় দল হবে।” তাঁর দাবি, গরু পাচারের টাকা কয়লা পাচারের টাকা দিয়ে বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরে ঘুরে ভাইপো কংগ্রেসের সব প্রাক্তন সভাপতি এবং নেতা কেনার চেষ্টা করে সর্বভারতীয় দল হবার স্বপ্ন দেখেছিলেন। ময়ূরের পেখম লাগালে কাক কখনো ময়ূর হতে পারে না। সেটা তৃণমূল কংগ্রেস বুঝে গেছে। তাঁর দাবি, ভাইপো ৫০০ টাকা করে মিছিলে আসার জন্য গোয়াতে লোককে দিয়েছিলেন, কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি।
সুকান্ত মজুমদার বলেন, তৃণমূল নেত্রী জয় বাংলা, বাংলা নিজের মেয়েকে চাই বলে স্লোগান দেয়। অথচ রাজ্য সভায় সাংসদ পাঠানোর সময় বাঙলাকে বঞ্চিত করে অসম ও গোয়া থেকে সাংসদ করলেন। আসানসোলে কম্বলকান্ডে জিতেন্দ্র তিওয়ারির জামিন হয়েছে। সেই প্রসঙ্গে সুকান্ত বলেন, এভাবে বিজেপিকে আটকানো যাবে না, বরং তাঁর পরামর্শ, তৃণমূল এবার নিজেদের ভবিষ্যতের কথা ভাবুক। জাতীয় দল থেকে রিজিওনাল পার্টি হয়ে গেছে, সর্বভারতীয় ভাইপো এখন বাংলার ভাইপো হয়ে গেছে।

