পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৬ জানুয়ারি: দিদির সুরক্ষা কবচ নিয়ে মেদিনীপুর ফেডারেশন হলে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করলেন মেদিনীপুরের বিধায়ক জুন মালিয়া। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক জুন মালিয়া, তৃণমূলের কো-অর্ডিনেটর অজিত মাইতি, পৌরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান সহ অন্যান্য নেতৃত্ব ও কর্মীরা। অনুষ্ঠানে বিশেষত দিদির সুরক্ষা কবচ প্রকল্পে কি কি সুবিধা সাধারণ মানুষ পাবে এবং এই প্রকল্প কিভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো যাবে, সেই সাথে কোথায় কতজন প্রতিনিধি কিভাবে সাধারণ মানুষের কাছে কোন কোন এলাকায় যাবে সেই বিষয়গুলিকে নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিকের মুখোমুখি হয়ে জুন মালিয়া বলেন, “এই কাজ ১১ই জানুয়ারি থেকে শুরু হবে এবং চলবে পরবর্তী দু’মাস ধরে। প্রায় ৩৩৪৩টি অঞ্চলের ২ কোটি পরিবার এই সুবিধা পাবেন। সাড়ে তিন থেকে চার লক্ষ স্বেচ্ছাসেবী এবং ৩৫০ জন রাজ্য নেতা এই কাজটি কার্যকর করায় সচেষ্ট থাকবে। আমরা সবাই প্রত্যেকদিন বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াবো, সরাসরি স্থানীয় নেতৃত্বের সাথে কথা বলে, সকল মানুষের সাথে কথা বলে আমরা কাজ শুরু করব। এর মাধ্যমে আমরা বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছতে পারবো এটাই আমাদের উদ্দেশ্য।”
সূত্র থেকে জানা যায়, উক্ত প্রকল্পে নেতাদের যে কাজগুলি করতে হবে সেগুলি হল –
১. প্রতি অঞ্চলে দশ দিন করে রাত্রি যাপন।
২. সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের যাত্রা শুরু করতে হবে।
৩. অঞ্চলের মাহাত্ম্যপূর্ণ স্থান দর্শন।
৪. ফুল বা দপ্তরে সারপ্রাইজ ভিজিট।
৫. এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাৎ।
৬. এলাকার মানুষের সাথে মধ্যাহ্নভোজ।
৭. বিকালে এলাকার মানুষের সাথে জনসংযোগ।
৮. সরকারের ১৫টি প্রকল্পের সুবিধা বোঝাতে হবে।
৯. সন্ধ্যায় ‘দিদির দূত’ স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া।
এছাড়াও ‘দিদির দূত’ স্বেচ্ছাসেবকদের কাজ গুলি হল-
১. সরকারের ১৫টি ‘ফ্ল্যাগশিপ’ প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন কিনা তা দেখা।
২. প্রতি বুথে পাঁচটি করে দল, এবং প্রতিটি দলে চার থেকে পাঁচজন করে স্বেচ্ছাসেবক থাকবে।
৩. প্রতিমাসে দশ দিন যেতে হবে অন্তত পাঁচটি বাড়ি।
৪. কাজের বাইরে দু ঘণ্টা দিতে হবে দলকে।
৫. যোগ দিতে হবে বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরে।
৬. জেলার হেডকোয়ার্টার থেকে নিতে হবে বিশেষ কীট ব্যাগ।
কি কি থাকবে ওই কিট ব্যাগে –
১. নির্দেশিকা : দিদির দূত হিসেবে কি করতে হবে তা লেখা থাকবে এই নির্দেশিকায়।
২. দিদির চিঠি : তার প্রতিনিধিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা চিঠি।
৩. কিট এন্ড কোড : স্ক্যান করলেই দিদির দূত app ডাউনলোড হবে।
৪. ক্যালেন্ডার : যার এক পিঠে ২০২৩ এবং অন্য পিঠে ২০২৪ এর বর্ষপঞ্জি থাকবে। এটা বাড়িতে বাড়িতে দিতে হবে।
৫. ব্যান্ড : দিদির দূত নিজে এই ব্যান্ড করবেন। যাদের বাড়ি যাচ্ছেন তাদেরকেও এই ব্যান্ড করাতে পারেন।
৬. ব্যাজ : দিদির দূত লেখা এই ব্যাজ পরেই সমস্ত দায়িত্ব পালন করতে হবে, এবং প্রতিনিধিরা এই ব্যাজ পরেই দায়িত্ব পালন করতে বেরোবেন।
সভায় তৃণমূলের কো-অর্ডিনেট অজিত মাইতি বলেন, ” স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প ছাড়া আর সমস্ত প্রকল্পই সাধারণ মানুষ পাচ্ছেন। স্বাস্থ্য সাথী ছাড়া আর কোনো কমপ্লেন আমাদের কাছে আসেনি। আশা করি এই সমস্যাও কিছুদিনের মধ্যে আমরা রিকভার করতে পারব। ”
কিন্তু সভাতে মেদিনীপুরের পৌর প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করলে জুন মালিয়া বলেন, “মেদিনীপুরে কোনো অনাস্থা আনা হচ্ছে না। কলকাতা থেকে জেনে এসেছি। কেউ বা কোনো সাংবাদিক ভুল খবর দেখালে বা প্রচার করলে আইনি ব্যবস্থা নেবো।”

