আমাদের ভারত, পূর্ব বর্ধমান, ২৭ ডিসেম্বর: চাষযোগ্য দশ বিঘা জমি, পাকা বাড়ি, বাথরুমে গরম জলের ব্যবস্থা, অন্তত ২ চাকার গাড়ি থাকতেই হবে। তবেই প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় বাড়ি পাওয়া যাবে। এগুলি না থাকলে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় বাড়ি পাওয়া যাবে না। পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার অন্তর্গত ওড়গ্রামে হাতে লেখা এই প্রতিবাদী পোস্টার ছেয়ে গেছে। এই পোস্টার গুলি লিখেছেন ওড়গ্রামের বাসিন্দা শেখ আবু তোরাব।
খুব ছোটবেলায় এক দুর্ঘটনায় একটি হাত বাদ গিয়েছিল আবু তোরাবের। একটা হাতই তার সম্বল। সমবায় সমিতিতে খুব অল্প পারিশ্রমিকের বিনিময় কাজ করেন। এছাড়া সাইনবোর্ড ও দেয়াল লিখেই রোজগার। পরিবারে রয়েছে মা, স্ত্রী ও সাড়ে তিন বছরের সন্তান। নিজের পরিবার নিয়ে প্রতিবন্ধী শিল্পী বাস করেন অন্যের জায়গায় একটি মাটির বাড়িতে। আবাস যোজনায় তার নাম থাকলেও তালিকা থেকে কোনো অজ্ঞাত কারণে নাম বাদ দিয়েছে। তারই প্রতিবাদে তিনি গোটা গ্রামে নিজে হাতে পোস্টার লিখে ও লাগিয়ে সরব হয়েছেন।
আবু তোরাব জানিয়েছেন, তিনি প্রতিবন্ধী। আবাস যোজনায় প্রথম তালিকায় তার নাম ছিল। কিন্তু কোনো সার্ভে না করেই তার নাম বাদ চলে গেছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন,বতার কোনো ভিটেমাটি নেই, নিজের বাড়ি নেই, জমি নেই, তাহলে তিনি ঘর না পেলে কে পাবে? যাদের পাকা বাড়ি আছে গাড়ি আছে তারা পাবে?
খোলা আকাশের নীচে রান্না করেন তার মা ও স্ত্রী। তোরাবের মা জানিয়েছেন, পুলিশ বলে গিয়েছিল ঘরের টাকা তারা পাবেন কিন্তু তারা পাননি। তার কথায়,”সরকার দিলেও পার্টি না দিলে কি করে পাবো?” তিনি জানান, তাদের অল্প জায়গা জমি ছিল, কিন্তু সেটা বিক্রি করেই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন ফলে এখন কিছুই নেই। দেওয়াল লিখে কোনো রকমে এখন দিন গুজরান হয় তোরাবদের। দুয়ারে সরকার হবার পর তোরাবের মা বিধবা ভাতা পেয়েছেন তার আগে তাও পেতেন না।
রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের দেওয়ালই বেশি লিখেছে তোরাব। তিনি বলেন, আমার নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিয়েছি, বিডিওকে লিখিত জানিয়েছি। সার্ভে করে তারপর যদি নাম বাদ দিতে হয় দিক, কিন্তু কেন নাম বাদ দেওয়া হলো তার কারণ জানতে হবে।

