“না পালিয়ে গেলে প্রাণে মেরে দেব, ঘর জ্বালিয়ে দেবো,” গ্রামের একমাত্র হিন্দু পরিবারকে হুমকি

আমাদের ভারত, ১৫ ডিসেম্বর: পালিয়ে যা এখান থেকে না হলে প্রাণে মেরে দেব। সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারকে এমনই হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মরিগাঁও এলাকায় মুসলিম প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। ওই পরিবারের বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দেবার ফতোয়া জারি করা হয় বলেও অভিযোগ।

রাজু হরিদাস নামের এক ব্যক্তি তার পরিবারকে নিয়ে লহরীঘাট এলাকায় বাস করেন। বর্তমানে মুসলিম অধ্যুষিত এই গ্রামে একমাত্র হিন্দু তারাই। গ্রামে বেশ কয়েক পুরুষ ধরে বসবাস করছেন তারা। আজ থেকে প্রায় ১০০ বছর আগে ইংরেজ আমলে রাজুর পূর্বপুরুষ এই গ্রামে বসবাস করা শুরু করেন। কিন্তু এখন মুসলিম প্রতিবেশীদের হুমকির ভয়ে পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি ছেড়ে গ্রাম ছেড়ে নিজেদের সম্পত্তি ছেড়ে পালিয়ে যেতে হচ্ছে রাজু হরিদাসদের।

এই লহরীঘাটে হিন্দুদের বসতি ছিল বলে জানা যায়। কোনো এক সময় এক মুসলিম পরিবার এসে সেখানে বসবাস করতে শুরু করে। তারপর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে মুসলিম পরিবারের সংখ্যা। কয়েক বছরের মধ্যেই সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যায় তারা। মুসলিম কট্টরপন্থীরা হিন্দুদের উপর অত্যাচার শুরু করে বলে অভিযোগ। গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় হিন্দু পরিবার গুলিকে। গোটা এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে এখন মোটে ১৬ টি হিন্দু পরিবার রয়েছে। তারাও নানা হুমকির মুখে পড়ে কিছু দিনের মধ্যে সব কিছু ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হবে।

রাজু হরিদাসের নামে প্রায় এক একরের বেশি জমি রয়েছে। কিন্তু তার প্রতিবেশী আব্দুল জলিল দীর্ঘদিন ধরে ওই জমির উপর নজর আছে বলে অভিযোগ। আব্দুলের পরিবারের ২৫ জন সদস্য মিলে রাজুকে মাঝেমধ্যেই হুমকি দেয়। এমনকি রাজুর পরিবারের উপর মারধরও করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সম্প্রতি আব্দুল রাজুদের হুমকি দিয়ে যায়, ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে না গেলে তারা তাদের প্রাণে মেরে ফেলবে।

কিছুদিন আগে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে সপরিবারে রাজু হরিদাস গিয়েছিলেন। ফিরে এসে দেখেন তার বাড়ি দাউ দাউ করে জ্বলছে।চোখের সামনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় সব। অবশেষে খবর পৌঁছায় মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার কানে। তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ করেন তিনি। ওই হিন্দু পরিবারকে সুরক্ষা দিতে নির্দেশ দেন পুলিশকে। তারপরই জেলার এসপি বিরাট পুলিশ বাহিনী পাঠান ওই হিন্দু পরিবারের সুরক্ষার জন্য। আপাতত ওই পরিবার গ্রামেই বাস করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *