আমাদের ভারত, কলকাতা, ২১ জুলাই : মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের শর্তে ২ ঘণ্টার মধ্যে ১৭ হাজার চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বাম সাংসদ বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। গত ২৮ জুন আসানসোলে তৃণমূলের কর্মিসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
অভিযোগকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন বিকাশবাবু। এক মাস না গড়াতেই ফের মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ জানালেন বিকাশবাবু।
কী হয়েছিল আসানসোলে? সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন কয়েকজন এসএলএসটি চাকরিপ্রার্থী। পরে পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেয়। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, “বিকাশবাবুদের গিয়ে বলুন, আপনার তো টাকার অভাব নেই। আপনি আমাদের চাকরি বন্ধ করেছেন, আপনিই ব্যবস্থা করে দিন। আমি তো কোর্টের অর্ডারই মানব ভাই ! আপনারা আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন। ১৭ হাজার চাকরি রেডি। পাঁচ হাজার জন নিজেদের ‘ডিপ্রাইভড’ মনে করেছিলেন, তাঁদের জন্যও চাকরির ব্যবস্থা করছি। কিন্তু আমি তো কোর্টে যাইনি। আপনারা গিয়েছেন !”
কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এরই পালটা জবাব দেন বিকাশবাবু। তিনি দাবি করেন, ১৭ হাজার ছেলেমেয়েকে চাকরি দিতে মাত্র ২ ঘণ্টা সময় লাগবে তাঁর। তার জন্য শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পদত্যাগ করতে হবে। উনি পদত্যাগ করুক। আমি চাকরির ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। আদালতে মামলা হল কেন?” দুর্নীতি আর কাটমানির জন্যই মামলা হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রীর দিকে আঙুল তোলেন বাম নেতা। কাটমানির ব্যবস্থা বন্ধ করে দিলেই চাকরি হবে, মামলাকারীদের বিরুদ্ধে তোপ দেগে আদতে যোগ্য ও শিক্ষিত প্রার্থীদের মমতা বিভ্রান্ত করছেন বলেই দাবি বিকাশবাবুর।
বৃহস্পতিবার একুশ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে ‘বিজেপি হঠাও’-এর সঙ্গে ‘সিপিএম হঠাও’ স্লোগান দেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিপিএম-এর বিরুদ্ধে তিনি একগুচ্ছ অভিযোগ আনেন। এদিনও তৃণমূল নেত্রী দাবি করেন, ”১৭ হাজার শিক্ষকের চাকরি তৈরিই আছে। ভর্তি করতে ডিপার্টমেন্ট রেডি। কোর্টে কেস চলছে বলে হচ্ছে না।“ তার পাল্টা দিয়েছেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা সিপিএম সাংসদ বিকাশ ভট্টাচার্য।
স্কুল সার্ভিস কমিশনের শিক্ষক ও অশিক্ষকের বিভিন্ন পদে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বেশ কিছুদিন ধরে। এ ব্যাপারে কলকাতা হাইকোর্টে উপর্যুপরি মুখ পুড়েছে রাজ্যের। আদালতে এবং সিবিআইয়ের জেরায় নাকাল হতে হয়েছে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় থেকে তৃণমূল বিধায়ক তথা শিক্ষাকর্তা মাণিক ভট্টাচার্যকে। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, “সিপিএমের আমলে ১০-১৫ লক্ষ টাকায় চাকরি বিক্রি হয়েছিল। সিপিএমের একটি কাগজ আছে, নাম আর বলছি না। সেখানকার কর্মীদের স্ত্রীরা শিক্ষকতার চাকরি পেয়েছিল। কীভাবে পেয়েছিল?“
মুখ্যমন্ত্রী আজ শহিদ সমাবেশে বলেন, “বিকাশবাবু, আপনাদের সময় কাদের বার্থ সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন? সেই ফাইল একটু বার করব? কী বলেন বিকাশবাবু? বলেছিলাম, বদলা নয়, বদল চাই। তাই কিছু করিনি।“
এ প্রসঙ্গে সিপিএমের আইনজীবী নেতা বিকাশ ভট্টাচার্য এই প্রতিবেদককে বলেন, “মমতার নেতৃত্বে একটা তদন্ত কমিটি গঠন করে ১৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিন। এক হাঁড়ি রসগোল্লা খাওয়াবো। না পারলে মমতাকে পাগলা গারদে রাখা হোক। ছায়ার সঙ্গে যুদ্ধ না করে তথ্য দিচ্ছেন না কেন? মিথ্যের ওপর ভরসা করে লোক খ্যাপানো ছাড়া আর কিছু করার সাহস ও সাধ্য তো আপনার নেই!“

