আমাদের ভারত, ৭ ডিসেম্বর:
সারা বিশ্ব ওমিক্রন আতঙ্কে জর্জরিত। এখনো পর্যন্ত ভারতে ২৩ জন ওমিক্রন আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া গেছে। প্রতিদিনই প্রায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা ভাইরাসের এই নতুন প্রজাতিতে আক্রান্তের সংখ্যা। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারকে ওমিক্রন নিয়ে ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের তরফে সতর্ক করা হলো।
দেশের এই চিকিৎসক সংগঠনের বক্তব্য, স্বাস্থ্যকর্মী, সামনের সারিতে কাজ করা কর্মী ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম আছে এমন ব্যাক্তিদের জন্য অতিরিক্ত টিকার ব্যবস্থা করতে হবে সরকারকে। সেটা না হলে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। একইসঙ্গে চিকিৎসকরা বলেছেন ১২-১৮ বছর বয়সীদের টিকাকরণ দ্রুত শেষ করতে হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে ওমিক্রন নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগ প্রকাশ করেন চিকিৎসকদের সর্বভারতীয় সংগঠন। তাদের বক্তব্য, ইতিমধ্যে একাধিক রাজ্যে ওমিক্রন আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গেছে। ভবিষ্যতেও এই সংখ্যা বাড়বে। আই এম এর বক্তব্য, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো যেসব দেশে প্রথম ওমিক্রনের খোঁজ পাওয়া গেছে, সেখানকার বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বাইরে থেকে দ্রুত সংক্রমণ ছড়াতে সক্ষম ওমিক্রন। ফলে খুব তাড়াতাড়ি বহু সংখ্যক মানুষ সংক্রমিত হতে পারেন।
আইএমএ আরও বলেছে, যখন একটু একটু করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছিল সেই সময় ওমিক্রন একেবারেই বিপরীত পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ফলে যদি প্রয়োজনীয় সর্তকতা অবলম্বন না করা হয় তাহলে ভয়ঙ্কর ভাবে তৃতীয় ঢেউয়ের মুখে পড়তে হবে।
ভারতের ৫০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক কমপক্ষে করোনা টিকার একটি ডোজ পেয়েছে, এর ফলে পরিস্থিতি আগের তুলনায় নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইএমএ চিকিৎসকরা বলছেন, এই কারণেই টিকাকরণের কাজ খুব তাড়াতাড়ি শেষ করা দরকার। ওমিক্রনের দাপট রুখতে সাহায্য করবে দেশের প্রত্যেক নাগরিকের টিকাকরণ। যারা একটি ডোজ পেয়েছেন তাদের জন্য দ্বিতীয় ডোজের ব্যবস্থা করতে হবে তাড়াতাড়ি। একইসঙ্গে তাদের দাবি, স্বাস্থ্যকর্মী, সামনের সারিতে থাকা কর্মী ও রোগ প্রতিরোধ শক্তি কম থাকা মানুষদের জন্য টিকার অতিরিক্ত ডোজের কথাও কেন্দ্রের তরফে শীঘ্রই ঘোষণা করার দরকার।

