আমাদের ভারত, ২ মার্চ: বিধানসভা ভোটের তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। রণ দুন্দুভি বাজিয়ে দিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলি। ২৬- এ বদলের ডাক দিয়ে রাজ্যজুড়ে পরিবর্তন যাত্রা শুরু করেছে বিজেপি। সেই পরিবর্তন যাত্রায় সোমবার রায়দিঘিতে জনসভায় যোগ দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই সভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে যদি আবার মানুষ ক্ষমতায় আনতে চায় তাহলে এক বড় আশঙ্কার কথা জানান তিনি। তাঁর দাবি, তৃণমূলেও শাসকের মুখ বদলে যাবে এবার।
অমিত শাহ যে মন্তব্য করেছেন তা তৃণমূলের ভিতরেও তুমুল জল্পনার ঝড় তুলেছে। তাঁর কথায়, “দিদি নয়, ভাইপোর শাসন হবে।”
রায়দিঘির জনসভায় দাঁড়িয়ে অমিত শাহর এই মন্তব্য এখন রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। দুর্নীতি, নারী নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ, এস আই আর নিয়ে বাংলার শাসক দলকে আক্রমণ করছেন শাহ। তবে আজকের বক্তব্য, এত কিছুর মধ্যে সবথেকে বেশি চর্চা শুরু হয়েছে তাঁর ভাইপোর শাসন হবে মন্তব্য নিয়ে।
রাজ্যের আম জনতার উদ্দেশ্যে অমিত শাহর বার্তা, এবার তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দিলেই ভুল করবেন, কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নয় ভাইপোর (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) শাসন হবে। অমিত শাহ দাবি করেছেন, বাংলার ভালো করা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যই নয়। তিনি আসলে অভিষেককে মুখ্যমন্ত্রী বানাতে চান। কিন্তু এই পারিবারিক রাজনীতি বিজেপিতে হয় না বলেই স্পষ্ট করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, তাদের দলে সাধারণ কর্মীও একদিন মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন। এটা একমাত্র বিজেপিতেই সম্ভব।
নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে অমিত শাহ বলেন, তার নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতি হয়েছে। এখনো চলছে। বাংলা তো বটেই, সারা দেশে যে পরিবর্তন চলছে তা থামাতে হবে। তাই বিজেপিকে ক্ষমতায় আনা প্রয়োজন।
তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবির মুর্শিদাবাদের যে মসজিদ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন তার কড়া সামালোচনা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এই ব্যাপারেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তুলেধনা করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, রাজ্যে বাবরি মসজিদ বানানোর ছক কষেছেন মমতাই। তিনি শুধু হুমায়ুনকে ব্যবহার করেছেন।
অমিত শাহর দাবি, একেবারেই পরিকল্পিতভাবে হুমায়ুন কবিরকে দল থেকে বের করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাতে বাংলায় মসজিদ তৈরি করা যায়, অথচ রাজ্যের মানুষ তার ওপর রুষ্ট না হন।
কিন্তু শাহর কটাক্ষ, মমতাদি বাংলার হিন্দু- মুসলিম দু’পক্ষই আপনাকে খুব ভালো করে চিনে গেছে। এবার তাদের বোকা বানানো যাবে না।
এই পরিবর্তন যাত্রার মূল উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে অমিত শাহ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী পরিবর্তন করা তাদের আসল লক্ষ্য নয়, সেটা রাজ্যের জনগণই করবেন। তাদের লক্ষ্য দুর্নীতিমুক্ত, অনুপ্রবেশমুক্ত, নারী সুরক্ষায় মোরা সোনার বাংলা তৈরি করা। ক্ষমতায় এলে সেটাই তারা দ্রুত সম্ভব করবেন।
একই সঙ্গে সপ্তম বেতন কমিশন নিয়েও বড় দাবি করলেন অমিত শাহ। রাজ্য সরকারি কর্মীদের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, বিজেপিকে ক্ষমতায় আনলে ৪৫ দিনের মধ্যেই সপ্তম বেতন কমিশনে বেতন দেওয়ার কাজ শুরু করে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, দেশজুড়ে সরকারি কর্মীরা সপ্তম বেতন কমিশনের ভিত্তিতে বেতন পান। কিছুদিনের মধ্যে অষ্টম বেতন কমিশন চলে আসবে, কিন্তু বাংলা সরকারি কর্মচারীদের বঞ্চিত রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি ক্ষমতায় এলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে।

