আমাদের ভারত, কলকাতা, ২৩ আগস্ট: পুজোয় ক্লাবে সরকারের টাকা দেওয়ার বিরোধিতা করল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (জুটা)। তাদের মতে, “আগামী দিনে চক ডাস্টার জোগাড় করাও দুষ্কর হয়ে উঠবে এই ভাবে চললে।”
মঙ্গলবার জুটা’র সাধারণ সম্পাদক পার্থ প্রতিম রায় জানান, “রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছেন ৪৩ হাজার পূজা কমিটিকে ৬০ হাজার করে আনুমানিক ২৫৮ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে দেবে এবং তার সঙ্গে থাকবে বিদ্যুতের বিলে ছাড়। সকলেই বুঝবেন, সরকার এই সমস্ত টাকাই দিচ্ছে সাধারণ মানুষের কর থেকে প্রাপ্ত টাকা থেকে।
একদিকে কোভিডের পরে জনজীবনের নানা দুর্ভোগ, নিত্যপ্রয়োষনীয় জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়া, কাজ হারানোর জন্য সাধারণ গরিব, নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত মানুষের জীবন দুর্বিষহ, অন্য দিকে সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগে বিদ্ধ এই সরকার পূজা কমিটিগুলির হাতে তুলে দিচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ।
একদিকে মেধাবী ছাত্ররা তাদের ন্যায্য চাকরির দাবিতে রাস্তায় ঝড় জল উপেক্ষা করে মাসের পর মাস অবস্থান করছে অন্যদিকে ১ লা সেপ্টেম্বর উৎসবের ডাক দেওয়া হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পড়াশোনা, অফিসের কাজ শিকেয় তুলে। একদিকে সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য দাবিতে হরতাল-এর ডাক দিচ্ছে, অন্যদিকে সরকার তার সমস্ত রাষ্ট্রযন্ত্র নিয়ে তা বানচাল করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ছে, আবার একই সঙ্গে বিভিন্ন অছিলায় বাড়িয়ে চলেছে লাগামছাড়া ছুটি। সরকারি চাকুরিজীবী, শিক্ষকদের ন্যায্য ডিএ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, অন্য দিকে সাধারণের করের টাকায় উৎসব পালন করা হচ্ছে।
উল্লেখ করতে চাই, কর্মীদের বেতন ছাড়াও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনন্দিন পড়াশোনা এবং গবেষণার কাজ চালাতে যে অর্থ সরকারের কাছ থেকে প্রাপ্য তা প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে। চল্লিশ শতাংশ বরাদ্দ কমিয়ে দিয়েছেন বর্তমান সরকার। প্রাত্যহিক লেখাপড়া ও গবেষণা চালানোর কাজ চূড়ান্তভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে—আগামী দিনে চক ডাস্টার জোগাড় করাও দুষ্কর হয়ে উঠবে এই ভাবে চললে।
ভয়াবহ এই পরিস্থিতিতে সরকারের এই বিশেষ অনুদান-পদক্ষেপে শিক্ষাঙ্গনের সদস্য হিসেবে আমরা বিস্মিত এবং ক্ষুব্ধ। আমরা চাই অবিলম্বে জনসাধারণের টাকার এই “মহোৎসব” বন্ধ হোক, সাধারণ চাকুরিপ্রার্থী, নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধানের দিকে নজর দিক সরকার। শিক্ষাক্ষেত্রের যথার্থ উন্নতির জন্য আন্তরিক হোক।“

