আমাদের ভারত, ২১ জুন: পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে চুড়ান্ত অশান্তি হয়েছে এবং তাতেই ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, এত হিংসা হলে ভোট বন্ধ করে দেওয়া উচিত। বিচারপতি অমৃতা সিনহার এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে মতামত জানাতে গিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, বামেরাই পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্রে হিংসার পথিকৃৎ। আর তৃণমূল কংগ্রেস ভালো ছাত্রীর মতো সেই পথেই এগিয়ে চলেছে।
সুকান্ত মজুমদার বলেন, “যে হিংসার কথা বিচারপতি বলেছেন তা গ্রহণযোগ্য নয়। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় বা আইরনীয় বলা যায়। বামেদের মামলার ভিত্তিতে মহামান্য আদালত এই কথা বলেছেন, কিন্তু বামেরাই পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্রে হিংসা আমদানির পথিকৃৎ। এই বামেরাই হিংসা এনেছিল। এই বামেদের হিংসাকেই তৃণমূল কংগ্রেস সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ভালো ছাত্রী হিসেবে। কিন্তু এই হিংসাকে মানা যায় না।” তাঁর কথায় বাঙালি হিসেবে আমরা ব্যর্থ হয়েছি পঞ্চায়েতের উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য স্থাপনে। কারণ কোনো জায়গায় পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘিরে এই ধরনের হিংসা আমরা দেখতে পাই না।
প্রসঙ্গত, মনোনয়ন জমা ও প্রতীক পাওয়ার পরেও আশ্চর্যজনকভাবে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে উধাও হয়েছে ভাঙড়ের অন্ততপক্ষে ১৯ জন বাম প্রার্থীর নাম। তাই বাধ্য হয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রার্থীরা। ১৯ জুন পর্যন্ত তাদের নাম তালিকায় ছিল, হঠাৎ করে বাদ চলে গেছে। এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই মন্তব্য করতে গিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা, পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজ্যে অশান্তির ঘটনায় উষ্মা প্রকাশ করেন। পর্যবেক্ষণে তিনি বলেন, যদি একটা পঞ্চায়েত নির্বাচনে এত রক্তপাত, হিংসা, সংঘর্ষ হয় তাহলে নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়া উচিত। এটা রাজ্যের পক্ষে লজ্জার। যদি আইন শৃঙ্খলার এই অবস্থা হয়, যে প্রার্থীরা সময়মতো মনোনয়ন পেশ করতে পারছে না, তাদের অতিরিক্ত সময় তো দিতেই হবে। তিনি বলেন, “আমার কাছে একাধিক মামলা আসছে যেখানে দেখা যাচ্ছে মানুষদের মারধর করা হচ্ছে। ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এসব কি?” হাইকোর্ট সিপিএম প্রার্থীদের নির্বাচনে লড়াইয়ের নির্দেশ দিয়েছে।

