CPM, Bankura, জোট না হলে তার দায় কংগ্রেসের, বাঁকুড়ায় বললেন মহম্মদ সেলিম

আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, রামপুরহাট, ২৫ জানুয়ারি: বাম – কংগ্রেসে জোটে জট। রামপুরহাটে সাংবাদিক সম্মেলনে এমনই বার্তা দিয়ে গেলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। জোট না হলে তার দায় কংগ্রেসের, জানিয়ে দিলেন মহম্মদ সেলিম।

এসআইআর নিয়ে মানুষের হয়রানির প্রতিবাদে রবিবার বিকেলে রামপুরহাট কলেজ সংলগ্ন মাঠে সভার আয়োজন করেছিল সিপিএম। সভায় মহম্মদ সেলিম ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে আগাগোড়া তৃণমূল- বিজেপি- আরএসএস জোট নিয়ে কটাক্ষ করেন বক্তারা। সাংবাদিক সম্মেলনে সেটা আরও পরিষ্কার করে সেলিম বলেন, “২০০২ সালে বাম আমলে যখন ভোটার তালিকা তৈরি হয়েছিল সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভায় স্পিকারের দিকে কাগজ ছুঁড়ে বলেছিলেন বাংলাদেশিদের নাম তোলা হয়েছে। তখন তাঁকে সহযোগিতা করেছিল লালকৃষ্ণ আদবানি। এখন আরএসএস বলেছিল ২ কোটি বাংলাদেশি রয়েছে। কিন্তু ম্যাপিংয়ে পাওয়া যায়নি তাই নির্বাচন কমিশন বিজেপি – আরএসএসকে খুশি করতে সবাইকে নোটিশ ধরাচ্ছে। তামিলনাড়ু বিধানসভায় বিল নিয়ে এসে নামের বানানের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক করেছে। কিন্তু এরাজ্যে সেটা করলো না কেন?”

এসআইআর প্রসঙ্গে সেলিম বলেন, “জ্ঞানেশ কুমার জ্ঞানপাপী। আরএসএস-এর নির্দেশে কাজ করছেন। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় বেশি বেশি করে নোটিশ দিচ্ছে। তারা আইন মেনে কাজ করছে না। মানুষকে হয়রানি করছে। বাম আমলে এদের নাম কাটার ক্ষমতা ছিল না। কিন্তু এখন নবান্নের ১৪ তলায় ডাকাত বসেছে। তার মাথায় মোদী, অমিত শাহ’র হাত রয়েছে। তাকে ১৪ তলা থেকে নামাতে পারলে বিজেপি, আরএসএস-এর সাহস কমে যাবে। নির্বাচন কমিশন পুনঃমুশিকভব হবে।”

বিজেপি – তৃণমূল জোটকে কটাক্ষ করে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক বলেন, “২৫ বছর ধরে তৃণমূলের ইশতেহার আরএসএস লিখে দেয়। বিজেপির ইশতেহার তৃণমূল লিখে দেয়। মুকুল রায় অনেক আগেই বলেছেন যাহাই বিজেপি, তাহাই তৃণমূল।”

জোট প্রসঙ্গে সেলিম বলেন, “আমরা বাবর, হুমায়ুন, আকবর, অশোক, বিক্রমাদিতদের সঙ্গে জোটে যাব না। আমরা এদিনের সভার জন্য অধীর চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। কিন্তু বিশেষ কিছু বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই অধীরবাবু জানিয়েছেন আগে আসন সমঝোতা হচ্ছে কিনা দেখে তারপর যৌথ সভা হবে। আসলে সবাই বামপন্থীদের মতো মেহনতী মানুষের পাশে নেই। ওদের দিল্লি যা নির্দেশ দেবে সেই মতো চলবে। তবে আমরা বিজেপি- তৃণমূল জোটের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *