আমাদের ভারত, ১৮ নভেম্বর: মায়ানমারে সাম্প্রদায়িক হিংসা শিকার রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আশ্রয় দিয়েছেন, তাহলে সেই দেশের আড়াই কোটি হিন্দু নাগরিক কেন তাদের মাতৃভূমিতে অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকতে পারবে না? দুর্গাপূজার সময় হিন্দুদের উপর হামলার ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশের শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ।
দুর্গাপূজায় কুমিল্লা জেলার এক পূজামণ্ডপে এক মুসলিম ব্যক্তির উদ্দ্যেশ্য প্রণোদিত ভাবে কোরান রাখাকে কেন্দ্র সনাতনীদের ওপর হিংসাত্মক হামলার ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় মন্দির ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক হামলা ভাঙ্গচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। ঘটনায় একাধিক ব্যাক্তির মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে। সেদেশের সংখ্যাগুরু মুসলিম মৌলবাদীদের নেতৃত্বে রংপুর, পীরগঞ্জ, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম,কক্সবাজার, গাজীপুর, গোপালগঞ্জ সহ বেশ কয়েকটি জেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হয়।
এইসব ঘটনার মধ্যে কুমিল্লাতেই ১০২ টি হামলার ঘটনার হয়েছে। ২০ হাজার ৬১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তার মধ্যে এখনো পর্যন্ত ৫৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনায় পাকিস্তানের হাত রয়েছে বলে দাবি করেছে দেশের শাসক দল আওয়ামী লীগ।
কিন্তু সাম্প্রদায়িক এই হিংসার ঘটনার পর বেশ কয়েকটি দাবি জানিয়েছে শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ। বুধবার বিকেলে চট্টগ্রামে এক সংবাদিক সম্মেলনে ছয় দফা দাবি জানানো হয় পরিষদের তরফে। তাদের অভিযোগ, প্রতিবারই ধর্মীয় অবমাননার অজুহাতে সংখ্যালঘুদের মঠ-মন্দির দেবালয়, ঘর বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে। নিরীহ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের হত্যা করা হচ্ছে। তাদের দাবি, এসব ঘটনায় জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে। এছাড়াও সংবাদ সম্মেলন থেকে যে উল্লেখযোগ্য দাবিগুলি জানানো হয় তাহল বাংলাদেশ থেকে সাম্প্রদায়িকতার বিষ উপড়ে ফেলতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত এবং ধ্বংস হওয়া মঠ মন্দির আশ্রমগুলি সেনাবাহিনীর মাধ্যমে পুনঃ নির্মাণ করতে হবে। বিদেশ মন্ত্রীর করা বিভ্রান্তিকর মিথ্যা মন্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন করতে হবে। দুর্গাপূজার ছুটি তিন দিন ঘোষণা করতে হবে।

