রাজেন রায়, কলকাতা, ৬ মার্চ: তৃণমূল কংগ্রেস যে প্রাইভেট লিমিটেড হয়ে গিয়েছে এবং এখানে আবেগের থেকে আনুগত্যকে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয় এমন অভিযোগ করেছেন দলত্যাগী নেতাদের অনেকেই, কিন্তু সম্পূর্ণ প্রশান্ত কিশোর নির্ভরতা না ছাড়লেও পিকের সুপারিশ অনেক ক্ষেত্রেই বাতিল করেছেন মমতা,
এমনটাই সূত্রের খবর। যদি ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের সার্ভে সুপারিশ মেনে তালিকা তৈরি করা হত, তবে আরও অনেক রাঘব বোয়াল বাদ পড়তে পারতেন। সে ক্ষেত্রে আরও আগুন জ্বলত দলে।
তৃণমূল সূত্রে খবর, পিকে-র সংস্থার পক্ষ থেকে সরেজমিনে সমীক্ষা চালিয়ে যে রিপোর্ট ঘাসফুলের শীর্ষতম নেতৃত্বের কাছে দেওয়া হয়েছিল, তাতে বহু এমন বিধায়ক-মন্ত্রীদের নাম ছিল যারা কালকের তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন। শেষ পর্যন্ত স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে তালিকাভুক্ত হন ব্রাত্য মন্ত্রী বিধায়করা। প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে পিকে’র পরামর্শ শোনা হলেও সব সুপারিশ মানা হয়নি। তৃণমূল সূত্র এমনটাই জানিয়েছে।
শুধু প্রশান্ত কিশোর নয়, এ বারের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বহু গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সুপারিশই মানা হয়নি বলে সূত্রের দাবি। যেমন এক প্রভাবশালী নেতা যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য এক পুরপিতার নাম সুপারিশ করেছিলেন। ওই কেন্দ্রেই আরেক পুরমাতার নাম সুপারিশ করেন আরেক প্রভাবশালী। কিন্তু, মানা হয়নি কারোর অনুরোধ। বেহালা পূর্ব বিধানসভার জন্যও এক প্রাক্তন মেয়র পারিষদ সদস্যের নাম বহু জায়গা থেকে সুপারিশ করা। কিন্তু তিনিও টিকিট পাননি। সেই জায়গায় রত্না চট্টোপাধ্যায়কেই প্রার্থী করেছেন মমতা। একই ভাবে নলহাটি কেন্দ্রে মইনউদ্দিন শামস যেন এ বারেও টিকিট পান তেমনটাই চেয়েছিলেন এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা। তৃণমূল কংগ্রেস সংগঠনে এখন অন্যতম প্রভাবশালী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বেশ কয়েক জন যুব নেতাকে টিকিট দেওয়া নিয়ে জল্পনা ছিল। কিন্তু প্রার্থী তালিকায় তেমন অনেককেই দেখা যায়নি।

