মিঠুন জাতগোখরো হলে মোদীর পায়ে মাথা ঠেকাতো না, ও জলঢোড়া: মদন

রাজেন রায়, কলকাতা, ৭ মার্চ: তৃণমূলের প্রথম জামানার শুরুর দিকে মিঠুন চক্রবর্তী রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছিলেন। কিন্তু একটি চ্যানেলে কাজ করা নিয়ে সারদাকাণ্ডে নাম জড়িয়ে পড়ায় রাজ্য সরকারের সঙ্গে তাঁর তিক্ততা বাড়ে। টাকা ফিরিয়ে দিয়ে তারপর বহু দিনের জন্য নিরুদ্দেশ হয়ে যান তিনি। আচমকাই পাঁচ বছর বাদে রবিবারের প্রধানমন্ত্রীর সভায় যোগদান করলেন তিনি। তার এই যোগদান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কিছু না বললেও পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় সেলিব্রেটি মিঠুন চক্রবর্তীকে তীব্র আক্রমণ করেছেন মদন মিত্র।

মদন মিত্র বলেন, ‘মিঠুন চক্রবর্তী আসলে জলঢোড়া, তা না হলে মোদীর পায়ে গিয়ে মাথা ঠেকাতেন না।’ একসময় তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ করে পাঠিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যসভার সাংসদ পদে মনোনয়ন পেশ করার পর নবান্নে এসে কার্যত বয়সে ছোট মমতার হাঁটু ছুঁয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছিল মিঠুনকে। আজ ফের একই কাজ করতে উদ্যত হয়েছিলেন মিঠুন। তবে উল্টোদিকে দাঁড়িয়েছিলেন মমতা নন, মোদী। এদিন, নরেন্দ্র মোদীকে হাঁটু ছুঁয়ে প্রণাম করার চেষ্টা করেছেন তিনি। আপ্লুত কন্ঠে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “এই দিনটা আমার কাছে স্বপ্নের মতো।” বক্তৃতা শেষে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে তাঁর সদর্প উচ্চারণ, “আমি জলঢোড়াও নই। বেলেবোড়াও নই। আমি হলাম জাত গোখরো। এক ছোবলেই ছবি।”

আর মিঠুন চক্রবর্তীর সেই বক্তব্যকে হাতিয়ার করেই এ দিন মদন মিত্র বলেন, “আমি খুব দুঃখ পেলাম। মিঠুন চক্রবর্তী বলে আমি যে মানুষটাকে চিনতাম, চাপের কাছে নত হওয়ার মতো মেরুদণ্ড ছিল না তাঁর। কিন্তু দেখা গেল মানুষের জীবনে এমন একটা সময় আসে, যে বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খাওয়ানোর চেষ্টা হয়। মিঠুন যে বললেন, আমি হেলেও নই, ঢোরাও নই, আমি গোখরো, সত্যিই ও যদি গোখরো হতেন, তাহলে মোদীর পায়ে গিয়ে জমা হতেন না। জীবন যখন হেলে, ঢোড়া হয়ে যায়, তখন বাইরে ডায়লগটা থাকে গোখরোর মতো, কিন্তু ওটা আসলে হেলে ঢোরা হয়ে যায়।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *