আমাদের ভারত, ২৬ জানুয়ারি: বাবরি মসজিদ যদি মুর্শিদাবাদের তৈরি হয় তবে রাম মন্দিরও তৈরি হবে, বলে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন সুকান্ত মজুমদার। বিজেপির পরিবর্তন সংকল্প যাত্রায় অংশগ্রহণ করতে রবিবার বহরমপুরে পৌঁছান কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। পরিবর্তন সংকল্প যাত্রার আগে শ্রীরাম লালা চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের উদ্বোধন করেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। সেখানেই সাংবাদিক বৈঠকে মুর্শিদাবাদে রাম মন্দির তৈরি প্রসঙ্গে তিনি একথা বলেন।
সুকান্ত মজুমদার বলেন, “রাম ভারতের, ভারত রামের। তাই রাম মন্দির হওয়া উচিত। তবে রাম মন্দির হবে সাধারণের টাকায়, জনগণের টাকায়। কোনো সরকারি টাকায় নয়। তাঁর কথায়, মুর্শিদাবাদে বাবরের নামে যদি বাবরি মসজিদ হয়, তাহলে একটা রাম মন্দির এখানে হতেই পারে।
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের অনুকরণে মসজিদ তৈরি শুরু করেছেন ভরতপুরের বিধায়ক তথা সাসপেন্ডেড তৃণমূলের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। গত বছর ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়। এই একই তারিখে অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ভাঙ্গা হয়েছিল ১৯৯২ সালে।
হুমায়ুন কবির দাবি করেন, রাজ্য সরকারের তরফে বাবরি মসজিদ তৈরির ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া হচ্ছিল, কিন্তু তিনি মাথা নোয়াবেন না। প্রয়োজনের শহিদ হয়ে যাবেন। আর বাবরি মসজিদ তৈরি করেই ছাড়বেন।
এরপর বহরমপুরে বিজেপির পরিবর্তন সংকল্প যাত্রায় এসে মুর্শিদাবাদে রাম মন্দির তৈরির হুঙ্কার দিয়ে গেলেন সুকান্ত মজুমদার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বহরমপুরের এক হোটেল থেকে শ্রীরাম লালা চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট লঞ্চ করেন। তারপর বহরমপুর মোহনা বাস স্ট্যান্ড থেকে শুরু হয় পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা। লালদিঘি পার, রবীন্দ্রসদন হয়ে টেক্সটাইল কলেজ মোড়ে শেষ হয় এই মিছিল।
দিন কয়েক আগে তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে সভা করেছেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে এই জেলার বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি শাখারব সরকার বলেন, এদিনের পরিবর্তন সংকল্প যাত্রায় বিজেপি সমর্থকদের জন জোয়ার তৃণমূলকে টেক্কা দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে ২০২৬- এর বিধানসভায় মুর্শিদাবাদের গেরুয়া ঝড় আসছে।
প্রসঙ্গত, রাজ্য সরকারের কোষাগারের টাকায় দীঘায় জগন্নাথ মন্দির তৈরি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে বিরোধীদের খোঁচা সহ্য করতে হয়েছে। এদিন সুকান্ত মজুমদার মুর্শিদাবাদে জনগণের টাকায় রামমন্দির তৈরি হবে, সরকারের টাকায় নয়, বলে আবারও মুখ্যমন্ত্রীকে একবার খোঁচা দিলেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

