আমাদের ভারত, ৩১ আগস্ট: কোনও হিন্দু মা যদি পঞ্চম সন্তানের জন্ম দেন তাহলে প্রসবকালীন সময়ে তাঁকে দেড় লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন সিংহবাহিনীর সভাপতি দেবদত্ত মাজি। আজ দক্ষিণ ২৪ পরগনার উস্তি’তে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে মাতৃবন্দনা নামে একটি অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষণা করেন। শুধু তাই নয় ওই মায়ের শেষ তিন সন্তানের পড়াশোনার দায়িত্বও সিংহবাহিনী বহন করবে বলে ঘোষণা করেন দেবদত্ত মাজি।
আজ উস্তি, মগরাহাট, ফলতার বিভিন্ন এলাকায় তিনি ফলের চারাগাছ বিলি, মেয়েদের সেলাই প্রশিক্ষণ এবং ক্যারাটে প্রশিক্ষণ সেন্টারের উদ্বোধন করেন। উস্তিতে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে মাতৃবন্দনা নামে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে তিনি ঘোষণা করেন যে সকল দরিদ্র মা ঠাকুর ভক্ত, সনাতন ধর্ম পালন করেন এবং যারা সিংহবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন গর্ভবতী অবস্থায় তাদের হরলিক্স এবং মাদার হরলিক্স দেবে সিংহবাহিনী। আজ ১৯ জন গর্ভবতী মায়ের হাতে তিনি হরলিক্স তুলে দেন। পাশাপাশি তিনি ঘোষণা করেন কোনও মা যদি চতুর্থ সন্তান প্রসব করেন তাহলে সন্তান প্রসবের সময় তাঁকে এককালীন ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে এবং তার ছোট দুই সন্তানের পড়াশোনার দায়িত্ব নেবে সিংহবাহিনী। এরপরে তিনি আরও একটি বড় ঘোষণা করেন, যদি কোনও মা পঞ্চম সন্তান প্রসব করেন তাহলে তাঁকে সন্তান প্রসবের সময় দেড় লক্ষ টাকা দেওয়া হবে এবং তাঁর শেষ তিন সন্তানের পড়াশোনার যাবতীয় খরচের ব্যবস্থা করা হবে।
হিন্দুত্ববাদীদের একটা বড় অংশ মনে করছেন ভারতে হিন্দুরা ধিরে ধিরে সংখ্যালঘু হয়ে পড়ছে। পশ্চিমবঙ্গের বেশ কটি জেলাতেও জনসংখ্যার হিসেবে হিন্দুরা সংখ্যাগরিষ্ঠ আর নেই। ফলে হিন্দুরা এই হিন্দুস্তানে তথা বাংলায় ভবিষ্যতে আত্মসম্মানের সঙ্গে যে বসবাস করতে পারবেন তাতে প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দিয়েছে। সেই ভাবনা থেকেই সিংহবাহিনীর মতো সংগঠন হিন্দু পরিবারের সন্তান নেওয়ার প্রবণতা যাতে বাড়ে তাতে উৎসাহ দিতে উদ্যোগী। সেই ধারণা থেকেই এই ঘোষণা করা হয়েছে সংগঠনের তরফে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।
অন্যদিকে মহিলারা যাতে স্বনির্ভর হয়ে অন্যের দায়িত্ব নিতে পারেন এবং নিজের আত্মরক্ষা পাশাপাশি সমাজকেও সুরক্ষা দিতে পারেন সেই জন্য একটি সেলাই প্রশিক্ষণ এবং ক্যারাটে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করেন দেবদত্ত বাবু। এদিন ৭৭ জন যুবতীর নাম নথিভুক্ত করা হয়। এই সেন্টারে ইতিমধ্যেই সেলাই মেশিন দেওয়া হয়েছে। সেখানে মহিলাদের হাতের কাজ শেখানো হবে। পাশাপাশি ক্যারাটে প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে।

দেবদত্তবাবু জানান, “তাঁর লক্ষ্য হিন্দু মেয়েরা যাতে নিজেদের নিরাপত্তার নিজেরাই করতে পারেন এবং অন্যকে সুরক্ষা দিতে পারেন তার জন্যেই এই ক্যারাটে প্রশিক্ষণ চালু করা হলো। এর ফলে মায়েদের মনের জোর অনেক বেড়ে যাবে”।

এছাড়া এদিন তিনি ১০০০ ফলের গাছ বিলি করেন। জামরুল, পেয়ারা, বাতাবিলেবু, সবেদা–এই সব ফলের গাছ তিনি এলাকার আগ্রহী মহিলা ও যুবকদের হাতে তুলে দেন। তিনি নিজেও কয়েকটি গাছ লাগান।

এছাড়া একটি ডিপ টিউবওয়েলের উদ্বোধন করেন তিনি। সিংহবাহিনীর আর্থিক সহযোগিতায় একটি ডিপ টিউবওয়েল বসানো হয়েছে সেখানে। এখানকার মায়েদের প্রায় দেড় কিলোমিটার দূর থেকে নৌকায় করে পানীয় জল আনতে হতো। তিনি তাদের সেই কষ্ট লাঘবের জন্য একটি টিউবওয়েল বসানোর কাজ শুরু করেছিলেন। আজ তার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।

