প্রেসিডেন্সি কর্তৃপক্ষকে আইসি-র ১৬-দফা দাবিপত্র

অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ৭ মে: প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের সংগঠন ইন্ডিপেন্ডেন্টস কনসলিডেশন (আইসি)-র পক্ষ থেকে কর্তৃপক্ষকে ১৬-দফা দাবিপত্র দেওয়া হল।

শনিবার সংগঠনের তরফে প্রতিষ্ঠানের ইংরেজি দ্বিতীয় বর্ষের সৌরভ চট্টোপাধ্যায় এই প্রতিবেদককে একথা জানিয়ে বলেন, “দীর্ঘ আড়াই বছর পর, অবশেষে ক্যাম্পাসে ছাত্রছাত্রীদের আসা যাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে গত নভেম্বর মাস থেকে। কিন্তু ক্যাম্পাসে সুষ্ঠুভাবে পড়াশোনার জন্য যে ন্যূনতম পরিকাঠামোর প্রয়োজন হয়, পড়ুয়াদের কাছে সেটুকু পৌঁছে দিতেও ব্যর্থ হচ্ছে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ক্যাম্পাসে ক্যান্টিনের সংখ্যা মাত্র একটি, খাবারের দাম আকাশছোঁয়া। স্যানিটারি প্যাড ভেন্ডিং মেশিনের অকেজো হয়ে রয়েছে বছরের পর বছর। ঐতিহ্যবাহী প্রবেশিকা পরীক্ষা বন্ধ হতে বসেছে। তা নিয়ে হেলদোল নেই কর্তৃপক্ষের। নেই জেরক্স সেন্টার। নেই ন্যূনতম ক্রীড়াপরিকাঠামো। এমনকি নেই পরীক্ষার পর খাতা রিভিউ-রিএক্সামের ব্যবস্থা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবকটি চেয়ার প্রফেসর পদ খালি।

এই সমস্ত বিষয় নিয়ে ইন্ডিপেন্ডেন্টস কনসলিডেশনের তরফে ডিন অব স্টুডেন্টসের কাছে ১৬ দফা দাবি নিয়ে ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়। দাবিগুলি পূরণ হওয়া পর্যন্ত আমরা এই লড়াইয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবো। আমাদের দাবি:

১. ক্যাম্পাসে পড়ুয়া সংখ্যার তুলনায় ক্যান্টিনের সংখ্যা মাত্র একটি, অবিলম্বে আরো ক্যান্টিন পুনরায় চালু করার ব্যবস্থা করতে হবে।
২. অর্থনৈতিকভাবে অ-স্বচ্ছল ছাত্রদের জন্য ভর্তুকি-যুক্ত খাবার এবং ক্যান্টিন পরিষেবার বন্দোবস্ত অবিলম্বে করতে হবে।
৩. ক্যাম্পাস পর্যাপ্ত পরিমাণ স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন নেই। এইরকম অসংবেদনশীল পরিকাঠামোগত অভাবের কারণে অনেক পড়ুয়াকে সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রুত আলোকপাত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

৪. পরবর্তী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে৷
৫. ক্যাম্পাসে জেরক্স সেন্টার পরিষেবা পুনরায় চালু করতে হবে।
৬. তীব্র দাবদাহের কথা মাথায় রেখে, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় উপস্থিত ওয়াটার কুলারের মেরামতির কাজ যথাসম্ভব শীঘ্র সম্পন্ন করতে হবে।
৭. ক্যাম্পাসে কোভিড-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ইচ্ছুক ছাত্রছাত্রীদের জন্য রিভিউ-রিএক্সাম এর ব্যবস্থা করতে হবে।
৮. ইচ্ছুক ছাত্রছাত্রীদের জন্য মাতৃভাষায় পরীক্ষা দেবার সুযোগ দিতে হবে।
৯. প্লেসমেন্ট সেল কার্যকরী করতে হবে।
১০. লাইব্রেরির সময়সীমা বাড়াতে হবে এবং প্রতি পড়ুয়ার মাথা পিছু বইয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। লাইব্রেরিতে প্রয়োজনীয় নতুন বই কেনার ব্যাবস্থা করতে হবে।

১১. লাইব্রেরিতে অনলাইন ফিস/ফাইন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
১২. বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নত করতে হবে, ক্রীড়া সরঞ্জামের এর পরিমাণ বাড়াতে হবে।
১৩. খেলার মাঠে পাশে উপস্থিত কাঁটার ঝোপগুলি সরিয়ে নতুন গাছ লাগতে হবে।
১৪. বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা যেমন নেট, সেট ইত্যদির জন্য গাইডেন্স সেল অবিলম্বে গঠন করতে হবে এবং সকল ছাত্রছাত্রী যাতে সেই সুবিধাগুলো অনায়াসে ব্যাবহার করতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে।

১৫. চেয়ার-প্রফেসর সহ সমস্ত শূন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মীর পদে দ্রুত নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।
১৬. সমস্ত ইচ্ছুক ছাত্রছাত্রীদের জন্য হোস্টেলের ব্যবস্থা করা ও দ্রুত বয়েজ হোস্টেল ভর্তি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে।“

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *