সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১৪ এপ্রিল: আগের তলব এড়িয়েও সিবিআই জেরায় শেষ পর্যন্ত পার পেলেন না আইসি সঞ্জীব ঘোষ। দু’দফায় জেরায় বিদ্ধস্ত হয়ে পড়েন
আইসি। আজ সকাল দশ’টা নাগাদ তাঁকে ঝালদার ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসের অতিথি নিবাসের সিবিআইয়ের অস্থায়ী শিবিরে ঢুকতে দেখা যায়। সংবাদ মাধ্যমকে এড়াতে সব রকম কৌশল নেওয়া হয়েছিল। সাদা জামা পরে মুখ আড়াল করে সিবিআই শিবিরে ঢোকেন তিনি। টানা সাড়ে তিন ঘন্টা পর সেখান থেকে একই কায়দায় কালো কাঁচ দেওয়া গাড়িতে বেরিয়ে যান তিনি। ফের বিকেল সাড়ে পাঁচটায় তাঁকে তলব করে সিবিআই। রাত ৮-৫৫ পর্যন্ত জেরার পর সাময়িক রেহাই পান আই সিসি সঞ্জীব ঘোষ।
তপন কান্দুর খুনের ঘটনা সংক্রান্ত সিবিআইয়ের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হন আইসি। এছাড়া খুনের আগে ভাইরাল হওয়া তাঁর অডিও সম্পর্কেও সিবিআইয়ের জেরার মুখোমুখি হন এই পুলিশ আধিকারিককে। ১৩ মার্চ তপন কান্দুর খুনের ঘটনার সময় পুলিশের নাকা তল্লাশি চালানো দলের সঙ্গে ঠিক কি কথা বার্তা হয় তা জানার চেষ্টা করে সিবিআই। ওই সময় কর্মরত এক পুলিশ আধিকারিক সহ কর্মীর দেওয়া রেকর্ড করা বয়ান ও আজকের দেওয়া আইসির তথ্য মিলিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। এছাড়া তপন কান্দুর খুনের প্রত্যক্ষদর্শীর সুইসাইড নোটের অভিযোগের বিষয়ে আইসির কাছে জানতে চাওয়া হয় সিবিআইয়ের পক্ষ থেকে। সূত্রের খবর হলেও সিবিআইয়ের পক্ষ থেকে আজ কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে বিকেলে সিবিআইয়ের প্রতিনিধি দল তপন কান্দু খুনে প্রত্যক্ষদর্শী নিরঞ্জন বৈষ্ণবের বাড়িতে যায়। সেখানে তাঁরা কথা বলেন নিহতের পরিবারের সাথে। যে ঘরে আত্মহত্যা করেছিলেন নিরঞ্জন সেই ঘর খতিয়ে দেখেন তাঁরা। সিবিআই তদন্তে আশাবাদী নিরঞ্জনের পরিবার।
১৩ মার্চ তপন খুনের সকাল দিকে একটি মোটর সাইকেলে শুটার কলেবর সিংয়ের সঙ্গে একজনকে দেখা গিয়েছে। ঝালদায় একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজে সেই ছবি ধরা পড়ে। সেটিও সিবিআইয়ের হাতে যায়। সূত্রের খবর, কলেবরকে নিয়ে সেদিন যে মোটর বাইক চালাচ্ছিল, তাকে চিহ্নিত করেছে সিবিআই। তার নাম জাবির আনসারী। সুটার বলে তাকেই সন্দেহ করা হচ্ছে। এখন হন্যে হয়ে তাকেই খুঁজছে সিবিআইয়ের তদন্তকারীরা।

