সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা,
১০ এপ্রিল: পুলিশ বিজেপির কথায় কাজ করছে। রাতের অন্ধকারে তৃণমূল কর্মীদের ধরে জেলে পুরছে। আমি দেখে রাখছি, ভোট পেরলেই দেখে নেব সেই সব পুলিশদের। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর ভান্ডারকোলা এলাকায় এসে এমনই বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এনআরসি নিয়ে নানা কথা তুলে কেন্দ্র মানুষকে বিভ্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মঙ্গলবার বনগাঁর সভায় সিএএ, এনআরসি এবং এনপিআরের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান আরও এক বার ব্যাখ্যা করে মমতা বলেন, “ভয়ের কারণ নেই। এখানে এসব হবে না।এ রাজ্যে এসব করতে চাইলে আমার মৃত দেহের উপর দিয়ে করতে হবে। দেখি বিজেপি-র কত শক্তি আছে।”
এ দিন ফের তিনি সতর্ক করে বলেন, “সাবধান। কেউ যদি বাড়ি গিয়ে জিজ্ঞাসা করে, বাবা-মা’র নাম কী, সব কিছু বলবেন না, কোনও কাগজ দেবেন না। কিছু ধর্মান্ধ হিন্দু, কিছু
গর্ধশক্তি যদি আধার কার্ড জমা দিতে বলে দেবেন না। আপনার বাড়িতে কে কে আছে বলতে বললে বলবেন না। বলবেন, আপনি কে? আগে আপনার পরিচয় দিন। রাজ্য সরকারের নাম করে ভুয়ো পরিচয় দিলে বিশ্বাস করবেন না আমার ছবি দিয়ে বললেও শুনবেন না। আপনারা আমার গলা চেনেন, আমাকে চেনেন, আমি সরাসরি বললে তখন বিশ্বাস করবেন।”
মমতার যুক্তি, যাঁরা ভোটার, তাঁরাই নাগরিক। কারণ নাগরিক না হলে দেশে ভোটাধিকার পাওয়া যায় না। তাঁর কথায়, “আপনারা কত সরকারকে নির্বাচিত করেছেন, আজ আপনাকে নতুন করে প্রমাণ দিতে হবে, আপনি এ দেশে
জন্মেছেন কি না, আপনি নাগরিক কি না? বর্তমান
প্রধানমন্ত্রীর ভোটটা কে দিয়েছে? আপনারা দিয়েছেন তো? ভোট যাকেই দিন, দিয়েছেন তো?”

রাজ্যে কংগ্রেস ও সিপিএমকে বিজেপির সঙ্গে এখন বন্ধনীতে রেখেএ দিন বনগাঁয় মমতা বলেন, “ওদের বিশ্বাস করবেন না।ওরা ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমেছে।” তাঁর মতে, “দিনের বেলা যারা কংগ্রেস আর সিপিএম, রাতে তারাই বিজেপি ওদের বিশ্বাস করবেন না। দিল্লিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বৈঠকে থাকার জন্য অন্য রাজ্যের অবিজেপি সরকারগুলিকে খোঁচা দিয়ে
মমতা বলেন, “সবাই তো এনপিআর-এ ঢুকে পড়েছে। আমার বুকের পাটা আছে। আমরা ঢুকিনি।” মা-বোনেরা নিজেদের ঠিকানা, অধিকার রক্ষায় আন্দোলন করছেন।” নতুন আইনে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করলে কী ‘বিপদ’ হতে পারে তা-ও
ব্যাখ্যা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সেই আবেদন করলে সকলকে বিদেশি আইনে ফেলা হতে পারে।” পাশাপাশি অসমের উদাহরণ টেনে মমতা বলেন, “আগুন লাগলে শুধু হিন্দু বা শুধু মুসলমানের ঘরে লাগে না। সবার ক্ষতি হয়।”
বনগাঁর সভা থেকে মমতা বললেন, অমিত শাহের নির্দেশে গুলি চালিয়ে চার জনকে মেরে ফেলেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।সেই সভা থেকে দিদি এও জানিয়ে দিলেন, আগামীকাল তিনি
ঘটনাস্থলে যাবেন।

