আমি ছেড়ে দেব না, সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেব, ফোনের কথোপকথন ভাইরাল প্রসঙ্গে বুদবুদে তোপ মমতার

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১৭ এপ্রিল: ‘বিজেপির কোনও ইস্যু নেই। আমি কার সাথে কথা বলছি, সেটাও ট্যাপ করছে। আমার ফোন ট্যাপ করছে। আমি ছেড়ে দেব না। সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেব। সিআইডি তদন্ত করে বের করবে।’ শনিবার গলসী বিধানসভার বুদবুদের জনসভা থেকে এভাবে হুঙ্কার দিলেনন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে প্রচারে সময় কমিয়ে দেওয়ায় কড়া আক্রমন করেন নির্বাচন কমিশনকে। 

শনিবার গলসি বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী নেপাল ঘোরুই’য়ের সমর্থনে তৃণমূলের জনসভা ছিল বুদবুদে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন আগাগোড়া বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে এক কাঠাগড়ায় দাঁড় করিয়ে আক্রমন করেন। রাজ্যে বিগত ১০ বছরে উন্নয়নের খাতিয়ান ও ফিরিস্তি দিয়ে বলেন, “কাঁকসার জয়দেব কেন্দুলিতে অজয় নদীর ওপর ১৬৫ কোটি ব্যায়ে সেতু নির্মান হচ্ছে। নদী ও সেচখাল সংস্কারের জন্য ৩ হাজার কোটি বরাদ্দ করা হয়েছে। দক্ষিনবঙ্গের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের সড়ক যোগাযোগে নতুন প্রকল্প করা হচ্ছে। ডানকুনি থেকে পুরুলিয়া ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর জন্য ৭২ হাজার কোটি টাকা প্রজেক্ট নেওয়া হয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কয়লাখনি পাঁচামীতে ১২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে।”

তিনি কেন্দ্রের সমালোচনা করে বলেন, “কেন্দ্র সরকার এত ধান কিনতে চায় না। আমরা ৪৫ লক্ষ মেট্রিক টন ধান কিনেছি।” চাষীরা একর পিছু কৃষকবন্ধুতে ৬ হাজার টাকা পায়। আবারও ক্ষমতায় আসলে ৬ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করা হবে। প্রান্তিক চাষীরা ৫ হাজার টাকা পাবে।”

এদিন তিনি করোনা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপিকে আক্রমন করে বলেন, “আমি রোজ দেখছি প্রধানমন্ত্রী আসছে। কোভিড বাড়িয়ে দিয়েছে। কোভিড নিয়ে চিন্তাভাবনা নেই। ৫ মাস কোভিড ছিল না। তখন যদি ভ্যাকসিনটা দিয়ে দিত। কোভিড নতুন করে আসত না। চিঠি লিখে বলেছিলাম, আমি টাকা দিয়ে কিনে নেব।’

এদিনও বহিরাগত ইস্যুতে বিজেপিকে আক্রমন করে বলেন, “বহিরাগত গুন্ডারা এসে বসে আছে বাংলায়। বিভিন্ন হোটেল গেস্ট হাউসে ১০ হাজারেরও বেশী লোক এসে বসে আছে। বেশীরভাগ কোভিড নিয়ে এসেছে। বহিরাগত ওরা আমাদের মধ্যে কোভিড ছড়াচ্ছে।” নরেন্দ্র মোদীর সভার প্যান্ডেল করছে বাইরে থেকে আসা লোকজন। তাদের ১২-১৪ জনের কোভিড হয়েছে। এভাবে কোভিড ছড়ানোয় বাংলা কেন দায়িত্ব নেব?  বাইরে থেকে যেই আসুক তাকে কোভিড টেস্ট করাতে হবে।”

ভোটের তিনদিন আগে প্রচার বন্ধ করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দুজন প্রার্থী মারা গেছে। তারপরও একসাথে বাকি ফেজগুলো নির্বাচন করল না। বড় কোনও ঘটনা ঘটলে তোমাদের ওপর দায় বর্তাবে। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহর মিটিং নেই বলে প্রচারের সময় কমিয়ে দেওয়া হল। শুধু আমাকে আটকানোর জন্য, সময় কাটা হল। যাতে মিটিং করতে না পরি। চারদিন প্রচার নষ্ট করে দিয়েছে।  অথচ তিনটা ফেজ নির্বাচন একসাথে করা হল না।”

শীতলকুচির ঘটনার ফোনে কথোপকথন ভাইরাল প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিজেপির কোন ইস্যু নেই। আমি কার সাথে কথা বলছি সেটাও ট্যাপ করছে। আমার ফোন ট্যাপ করছে। আমি ছেড়ে দেব না। সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া উচিত। সিআইডি তদন্ত করে বের করব। সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেব।” তিনি ফোন ট্যাপ বিজেপির দিকে আঙ্গুল তুলে বলেন, “বিজেপি ফোন ট্যাপ দল বেঁধে পাবলিসিটি করছে। তুমি করেছো বিজেপি। আমি খুঁজে বের করব। কে কে এই খেলায় আছে।”      

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *