আমি বেঁচে থাকতে কোনওদিন তৃণমূলে যাব না, অভিষেকের দূতকে বললেন নিহত মণীশ শুক্লার বাবা

আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ১১ ফেব্রুয়ারি: দুষ্কৃতিদের গুলিতে নিহত টিটাগড়ের জনপ্রিয় বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লার বাবার সঙ্গে আলোচনা করতে চায় সাংসদ অভিষেক বন্দোপাধ্যায় ও তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব, বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পক্ষ থেকে টিকিট দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছিল মণীশ শুক্লার খড়দহের বাড়িতে তাঁর বাবা চন্দ্রমণি শুক্লার কাছে। যদিও নিহতত বিজেপি নেতার বাবা চন্দ্রমণি শুক্লা তৃণমূলের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মণীশ শুক্লার বাবা তাঁর নিজের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, “তৃণমূলের পক্ষ থেকে গত কয়েক দিন আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আমার বাড়িতে ওরা প্রতিনিধি পাঠিয়েছিল, ফোনেও বারবার অনুরোধ করছে যাতে আমি তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে, অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করি। কিন্তু ওদের প্রস্তাবে আমি রাজি নই। বিষয়টা আমি সংবাদ মাধ্যমকে প্রথমে জানালাম, এবার আমি এই বিষয়টা বিজেপি শীর্ষ নেতাদের জানাব। আমি যাদের নামে এফ আই আর করলাম, মূল অভিযুক্ত তৃণমূলের ২ পৌর প্রশাসক প্রশান্ত চৌধুরী ও উত্তম দাসকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদও করেনি। এখন ভোট সামনে, ওরা ভয় পাচ্ছে যদি ব্যারাকপুর সিট হেরে যায়, তাই আমাকে তৃণমূলে টানতে চাইছে। আমি বেঁচে থাকতে কোনওদিন তৃণমূল কংগ্রেসে যাব না।

তিনি বলেন, তাছাড়া মণীশের খুনের পর প্রথম দিন থেকে আমার পরিবারের পাশে বিজেপি দাঁড়িয়েছিল। এখন বলছে অভিষেক বন্দোপাধ্যায় কথা বলতে চায়। ওরা ভোটে হারের ভয় পেয়ে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করছে।”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত ৪ অক্টোবর ভর সন্ধ্যেবেলায় টিটাগড় থানা থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে দুষ্কৃতীদের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে খুন হন বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লা। সেই খুনের ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি করেছেন মণীশের বাবা চন্দ্রমণি শুক্লা। দীর্ঘ চার মাস পর মণীশের বাবার একই অভিযোগ সি আই ডি সঠিক তদন্ত করছে না। নিজের বাড়িতেই সাংবাদিক সম্মেলন করে চন্দ্রমণিবাবু জানালেন, তদন্তের গতি যেভাবে এগোচ্ছে তাতে তিনি খুশি নন, আর যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের পুলিশ বা সিআইডি কোনওভাবে অভিযুক্ত না করে শুধুমাত্র সন্দেহের তালিকায় রেখেছে। পাশাপাশি তিনি আরও অভিযোগ করেন, দোষীদের আড়াল করার জন্যই তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব ফোন মারফত তাঁকে বিধানসভা ভোটের আগে বিভিন্নভাবে প্রলোভিত করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *