আমাদের ভারত, ডায়মন্ড হারবার, ৩ ডিসেম্বর: ডিসম্বর মাসেই ফের ডায়মন্ড হারবারে বিজয় উৎসব করতে তিনি ফিরে আসবেন। আর এই উৎসব করতে সঙ্গে করে লরি ভরে লাড্ডু আনবেন। শনিবার শহরের লাইট হাউজের মাঠে বিজেপির জনসভা থেকে এ কথাই বলেছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী।
একাধিক বাধা পেরিয়ে শনিবার বেলা দুটোয় সভা শুরু হয় বিজেপির। সেখান থেকে ফের চোর ধরো জেল ভরো স্লোগান তোলেন বিরোধী দলনেতা। আজ শুভেন্দুর মঞ্চে বড় বড় করে লেখা ছিল ১৯৫৬। তার সামনে দাঁড়িয়ে বাংলার পিসি ভাইপোর তুলোধোনা করেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, “রাতে তৃণমূল দুষ্কৃতীরা আমাদের মঞ্চ খুলে নিয়ে যাওয়ার পর আমি হাওড়ায় এক ডেকোরেটরকে ফোন করি। তিনি বলেন, আমি জাতীয়তাবাদী। আপনি জাতীয়তাবাদের জন্য লড়াই করছেন। আপনার পাশে থাকবো না। আমি তো মোদীজির ফ্যান। কাজ শুরু করে দেন তিনি। বেলা এগারোটার মধ্যে মঞ্চ পুরোপুরি তৈরি হয়ে যায়।”
শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, সভায় আসার পথে বিজেপি সমর্থকদের ১০০-র বেশি গাড়িতে হামলা হয়েছে। তাতে শতাধিক কর্মী আহত। যাদের মধ্যে দুজন গুরুতর আহতকে কলকাতায় নিয়ে যেতে হয়েছে।
শুভেন্দু জানান, সোমবারই ফের কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবেন তিনি। আহতদের চিকিৎসা ও গাড়ি মেরামতির খরচ আদায় করবেন সরকারের থেকে।
বিরোধী দলনেতা মনে করেন, ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটের রাজ্যের প্রথম যে দুটি জেলা পরিষদ দখল করেছিল তৃণমূল তার মধ্যে একটি দক্ষিণ ২৪ পরগনা। সেই সময় নির্বাচন হয়েছিল। কিন্তু ২০১৬ সালের পর জেলায় ভোট করতে দেয়নি ভাইপোর বাহিনী। ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে কেউ মনোনয়ন পর্যন্ত পেশ করতে পারেনি। শুভেন্দু হুঙ্কার দিয়ে বলেন, এবার খেলা দেখাবো। পঞ্চায়েত নির্বাচনে মনোনয়ন পেশ করার ব্যবস্থা করবে দল।”এরপরই হুঁশিয়ারির সুরে শুভেন্দু বলেন, “কি করতে হয় দেখবেন। আমি এই মাসেই আবার আসবো। বিজয় সমাবেশ করতে আসবো। সঙ্গে এক লরি লাড্ডু নিয়ে আসব। কারণটা বলছি না। আমাকে জগন্নাথ দা বলেছেন কারণটা বলতে না।” সবার শেষে চোর ধরো জেল ভরো স্লোগান দেন শুভেন্দু। বেশ কিছুদিন ধরেই ডিসেম্বরে রাজ্য সরকার বড় ধাক্কা খাবে বলে দাবি করেছেন বিজেপি নেতারা। কিন্তু সেই ধাক্কা ঠিক কি এখনো কেউ মুখ খোলেননি স্পষ্ট করে।

