অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ২৮ ফেব্রুয়ারি: কলকাতা বইমেলা নিয়ে ভাবনার কথা জানাতে গিয়ে এভাবেই তাঁর ধারণার কথা বললেন অনাবাসী কর্পোরেট আধিকারিক জয়ন্ত ঘোষ।
একটি বহুজাতিক সংস্থার আন্তর্জাতিক বিপননের আধিকারিক জয়ন্তবাবুর কথায়, “দেশ ছেড়েছি ১৯৮১-তে। মানে চার দশকের ওপর হয়ে গেল। পড়তাম বালিগঞ্জ গভর্নমেন্টে। কতরকম বই পড়তাম সে সময়! ভাবি এখন কী ছোটরা এত রকম বই পড়ে? আসলে সময়টা বদলে গিয়েছে। বইয়ের জায়গা দখল করছে মুঠোফোন। আমিও কি আর আগের মত বই পড়ি? সকালে কাগজ পড়ার সেই অভ্যাসটাও তো খেয়ে নিয়েছে বৈদ্যুতিন আধুনিকতা।
নিউ জার্সিতে থাকি। কেবল এখানে কেন, গোটা মার্কিন মুলুকে ঠিক এরকম বইমেলা হয় না। ওখানে বড় বড় পাবলিক লাইব্রেরিতে প্রচুর বই আছে। কিন্তু সেখানে এ রকম মেলায় পড়ুয়াদের সমাবেশের মত অনাবিল আনন্দ নেই। ভারতেরও কোথাও এরকম আছে কি? নতুন বইয়ের আত্মপ্রকাশ নিয়ে আলোচনা, নানা বিষয় নিয়ে সভা— সব মিলিয়ে একটা অন্য রকম পরিবেশ। কেউ বলতেই পারেন হুজুগে। আমার কিন্তু কলকাতার বইমেলার সামগ্রিক প্রয়াসটা ভালো লাগে।
২০২০-তে কলকাতায় এসে বইমেলায় গিয়েছিলাম। বই পড়াটা দরকার। বিশেষ করে শৈশবে ও উঠতি বয়সে পড়ার অভ্যাস থাকলে অনুভবের পরিসরটা বাড়ে বলে আমার মনে হয়। মেলায় যে সবাই এসে বই কেনেন, তা মোটেই নয়। কিন্তু কিছু লোক তো কেনেন? সেটাই বা কম কী? যদি বইয়ের সঙ্গে মেলায় খাবারের স্টল থাকে, তাতেও তো আপত্তি থাকার কথা নয়। প্রযুক্তির বিবর্তন তো আমরা ঠেকাতে পারব না। কিন্তু বইজগৎকে যতটা সম্ভব টিঁকিয়ে রাখার অঙ্গীকার করতে হবে আমাদের। দীর্ঘজীবী হোক কলকাতা বইমেলা।

