আমাদের ভারত, কলকাতা, ২১ অক্টোবর: সল্টলেকের আন্দোলনকারীদের প্রতি পুলিশি আচরণে তোপ দাগলেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। শুক্রবার সকালে তিনি সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “সুপ্রভাত বলতে মন চাইছে না। লড়াই তীব্র হবে।”
অগ্নিমিত্রা লিখেছেন, “মুখোশটা খুলে গিয়েছিল অনেকদিন। স্বৈরাচারী শাসকের চেহারাটা রাজ্যের মানুষের কাছে পরিস্কার হয়ে উঠেছিল। সেই ধারণাতে আবার শিলমোহর বসিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাতের অন্ধকারে বিধাননগরের রাস্তা থেকে ছেলে, মেয়েগুলোকে হিড়হিড় করে টেনে পুলিশ ভ্যানে তুললো পুলিশ। এই আন্দোলনকারীদের “অপরাধ” ছিল হকের চাকরির দাবি করা। চাকরি লুট করেছে মমতার দল।
৫৭ ঘন্টা খোলা রাস্তায় না খেয়ে অনশন চালাচ্ছিল হবু শিক্ষকরা। ২০১৪ সাল থেকে ২০২২, চোখের সামনে দিয়ে এতগুলো বছর চলে গিয়েছে। শিক্ষিত ছেলে, মেয়েগুলো যোগ্যতা থাকলেও চাকরি পায়নি। তৃণমূল সরকার টাকার বিনিময়ে অযোগ্যদের চাকরি দিয়েছে।
শেষে জীবন বাজি রেখে অনশনের রাস্তা নিতে বাধ্য হয়েছিল আন্দোলনকারীরা। খোলা আকাশকে সঙ্গী করে নেমেছিল, ডু অর ডাইয়ের লড়াইতে।
গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে মেনে নিতে পারেন না মমতা। আন্দোলন দমাতে পুলিশ লেলিয়ে দেন। আর বীর পুলিশরা নিরস্ত্র, ৫৭ ঘন্টা না খেয়ে থাকা হবু শিক্ষকদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে চ্যাংদোলা করে ভ্যানে তুললো। অথচ মমতা নিজে কলকাতা ও সিঙ্গুরের রাস্তার একপাশ আটকে দিনের পর দিন বসেছিলেন।
অনেক মেয়ে তার বাচ্চা নিয়ে এসেছিলেন। দুই বছরের বাচ্চা মার সঙ্গে শুয়ে রাত কাটিয়েছে। জানি না, পুলিশের টানাটানিতে বাচ্চাগুলোর কী অবস্থা। এখনও জানি না রাত কাটিয়ে সব ছেলে ও মেয়েরা বাড়িতে ফিরতে পেরেছে কিনা? অনেক মেয়েকে স্টেশনে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই হচ্ছে সরকারের মানবিক মুখ! এই মহিলার উপর ভরসা করেছিল বাংলার জনগণ। আন্দোলনকারীদের হাতে পোস্টার ছিল – কি মাননীয়া মৃত্যুর কার্নিভাল দেখতে চাইছেন? ঠিক তাই। ক্ষমতায় আসার পরে পরিবর্তনের সরকারের ১১ বছর ধরে মৃত্যুর কার্নিভাল দেখছে বাংলা।
অনাচার করো যদি, রাজা তবে ছাড়ো গদি/ যারা তার ধামাধারী, তাদেরও বিপদ ভারি/ গরিবে শোষণ পাপ, ক্ষমা চেয়ে নাহি মাপ/ নাহি কোনো পরিত্রাণ, হীরকের রাজা শয়তান।
লড়াই জারি থাকবে। কথা দিলাম, এই স্বৈরাচারী শাসনের শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাস্তায় থাকব, যতই আক্রমণ আসুক।”

