আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ৫ মার্চ: ইউক্রেন থেকে ঘরে ফিরল ছেলে। খুশির হাওয়া বীরভূমের রামপুরহাট থানার নারায়ণপুর গ্রামে। বাড়ি ফিরেই পরিবার ও গ্রামবাসীদের কাছে আতঙ্কের অভিজ্ঞতা শোনালেন চন্দ্রনাথ দত্ত।
বীরভূমের রামপুরহাট থানার নারায়ণপুর গ্রাম থেকে ডাক্তারি পড়তে ২০১৮ সালে সুদুর ইউক্রেনে পারি দিয়েছিলেন চন্দ্রনাথ দত্ত। এবারই ছিল তাঁর শেষ বর্ষের পড়া শেষ করে বাড়ি ফেরার পালা। কিন্তু তার আগেই রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের যুদ্ধ তাঁর স্বপ্ন উলটপালট করে দিয়েছে। তিনি বলেন, “আমি ছিলাম ইস্ট্রান পার্টে। যুদ্ধে ওই এলাকায় সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে দিন কয়েক বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছিলাম। সেখানেই আমার সঙ্গে বেশ কিছু ডাক্তারি পড়ুয়া ছিলেন। এরপরেই আমরা ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তাদের পরামর্শে আমরা একটি বাস ভাড়া করে রোমানিয়ন বর্ডারে পৌঁছাই। বাসের মধ্যে ভারতীয় পতাকা লাগানো হয়েছিল। যাতে রাশিয়ার সেনারা আমাদের উপর আক্রমণ না করে। আমরা যখন বর্ডারে পৌঁছাই সেখানে তখন এক হাজার ছাত্রছাত্রী দাঁড়িয়ে ছিল।
ওইদিনই আমরা বর্ডার পেরিয়ে রোমানিয়া পৌঁছাই। সেখানে খাবারের ব্যবস্থা করে ভারতীয় দুতাবাস। সেখান থকে আমরা পৌঁছাই ক্যাপিটাল অফ রোমানিয়া বুখারিস্টে। সেখান থেকে মুম্বই। এরপরেই জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বাড়িতে পৌঁছে দেয়।”

তার কথায়, প্রতিটি দিনরাত আতঙ্কে থাকতাম। ৫০ জনের উপর ছাত্রছাত্রী ছিলাম বাঙ্কারে। মাঝে মধ্যে এটিএমে টাকা তুলতে গিয়ে মাথার উপর দিয়ে ড্রোন উড়ে যেতে দেখেছি। আমাদের কলেজের পাশেই একটি ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর অফিস ছিল। সেখানে ঘন ঘন আক্রমণ করেছে রাশিয়ার সেনা। ফলে আতঙ্কে আমরা বাঙ্কারে থাকতাম। বাড়ি ফিরে মনে হচ্ছে নতুন জীবন পেলাম।”
মা শিল্পী দত্ত বলেন, “খুব আতঙ্কে ছিলাম। ছেলে ফিরে আসবে ভাবতে পারিনি। আমরা খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলাম। ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।”

