বিশ্বভারতী-শান্তিনিকেতনে কোনও পাঁচিল চাই না, শান্তির পক্ষে মত মুখ্যমন্ত্রীর

রাজেন রায়, কলকাতা, ১৭ আগস্ট: গত কয়েকদিন ধরেই পৌষমেলার মাঠ ঘেরা নিয়ে প্রাক্তনী, বর্তমান পড়ুয়া-সহ স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। তারইমধ্যে জোরকদমে চলছিল কাজ। কিন্তু সোমবার সকালে পে-লোডার দিয়ে পাঁচিল ভেঙ্গে দেন স্থানীয়রা। জনতার রোষে ভাঙ্গা পড়ে বিশ্বভারতীর একটি গেট, অস্থায়ী অফিসও। বিক্ষুব্ধদের মধ্যে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কও। পুরো বিষয়টি কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রককেও জানানো হয়েছে।

এ দিন নবান্নেও এ বিষয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে এই নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি না থাকলেও পরে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি।
নবান্নের সাংবাদিক সম্মেলন থেকেই তিনি জানান, ভুবনডাঙার মাঠে পাঁচিল পড়ুক তা তিনি চান না।রাজ্যপাল তাঁকে বিশ্বভারতীর পরিস্থিতি নিয়ে ফোন করেছিলেন। সেখানে তিনি নিজের অবস্থান পরিস্কার করে দিয়েছেন রাজ্যপালের কাছে। একই সঙ্গে জানিয়েছেন, উপাচার্য না ডাকলে বিশ্বভারতীতে পুলিশ ঢুকবে না। নির্দেশ না পেলে শিক্ষাক্ষেত্রে পুলিশ ঢুকতে চায় না। দ্রুত বৈঠক ডেকে পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য
তিনি জেলাশাসককে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন,‘বিশ্বভারতী কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়। আমি কোনও মন্তব্য করব না। তবে রাজ্যপাল আমাকে ফোন করার পর আমি খোঁজ নিয়ে যা জেনেছি, ওখানে একটা নির্মাণকাজ চলছিল। সেখানে সেই কাজ চলার সময় কিছু বহিরাগত উপস্থিত ছিলেন। বহিরাগত মানে যারা ওই নির্মাণ কাজ চালাতে এসেছিলেন। ছাত্ররা তার প্রতিবাদ জানায়। জেলাশসককে বলেছি, উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনে পড়ুয়া ও স্থানীয়দের নিয়ে বৈঠক করুন। আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করতে হবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্বভারতী গড়ে তুলেছিলেন প্রাকৃতিক পরিবেশে শিক্ষাদানের জন্য। আমি একটাই কথা বলব, বাংলার ঐতিহ্য যাতে নষ্ট না হয়, বিশ্বভারতীর গৌরব এবং ঐতিহ্য যাতে অটুট থাকে, তা আমাদের সকলের দেখা উচিত।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *