সেলফি তোলা নেতা চাই না, ফেসবুকবিপ্লব নয়,মাটিতে নেমে কাজ করুন, দলের কর্মীদের সাথে কি সৌমিত্রকেও বার্তা সুকান্তর?

আমাদের ভারত, ২০ অক্টোবর:
ফেসবুকে বিপ্লব নয়, মাটিতে নামুন। মানুষের জন্য কাজ করুন। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে বর্ধমানের দলীয় কর্মীদের এই বার্তাই দিয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। কিন্তু অনেকের মতে এই ভাবেই তাঁর বিরুদ্ধে করা সৌমিত্র খাঁয়ের মন্তব্যের পাল্টা দিয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি।

বর্ধমানের সংস্কৃতি লোকমঞ্চে বিজেপির বিজয়া সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখান থেকে এই বার্তা দিয়েছেন সুকান্ত। তিনি বলেন, “সামনে পঞ্চায়েত ভোট। নিজের অঞ্চলকে নিজের দুর্গে পরিণত করুন। যাতে তৃণমূল কংগ্রেস ভোট লুট করতে না পারে। এই প্রতিজ্ঞা করুন।”

তিনি বলেন, “পঞ্চায়েতের জন্য কোমর বেঁধে লড়াই করুন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি তুলে নিজেকে প্রমাণ নয়। সেলফি তোলা নেতা আমার চাই না। যারা লড়াই করবে পঞ্চায়েতে নিজের বুথ সামলে থাকবে, তাদের দরকার। তাঁর কথায়, “যে দেবতা যে ফুলের সন্তুষ্ট থাকে তাকে সেই ফুল দেবেন। তৃণমূল কংগ্রেস যদি দুধ দেয় তাহলে পায়েস তৈরি করে দেবেন। দুধের বদলে যদি অন্য কিছু দেয়, সাপ নিয়ে এলে ফিনাইল দেবেন। তাহলে পালিয়ে যাবে। আপনার পঞ্চায়েত আপনাকে রক্ষা করতে হবে। আর ফেসবুক ছেড়ে মাটিতে নামুন। মানুষের কাছে যান মানুষের কাছে গিয়ে মানুষের কাজ করুন।”

বিজেপির কোর কমিটিতে জায়গা না পেয়ে দলের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। তার কথায় দিলীপ ঘোষ ও শুভেন্দু অধিকারী ছাড়া রাজ্য বিজেপির কোনো নেতার যোগ্যতা নেই। সুকান্ত মজুমদারকে তিনি শিক্ষানবিশ বলেছেন। কিন্তু রাজ্য বিজেপি সভাপতি এব্যাপারে সরাসরি কোনো কথা না বললেও বর্ধমানের সভাতে কর্মীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বার্তার মাধ্যমে সৌমিত্র খাঁকেও পাল্টা জবাব দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, এসএসসি’র চাকরি প্রার্থীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “টেট উত্তীর্ণ হয়ছে, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকরি হয়নি। রাজ্য সভাপতি হিসেবে আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি আমরা ক্ষমতায় এলে কেউ চুরি করে চাকরি করতে পারবে না। কেন্দ্রীয় সরকার যেমন অনলাইনে পরীক্ষা নেয় সেই রকম অনলাইনে পরীক্ষার ব্যবস্থা করবো। যাতে উপযুক্তরাই চাকরি পাবে। ঘুষ দিয়ে চাকরি করতে পারবে না।”

তিনি আরও বলেন, “একটা সময় তৃণমূল বলতো খেলা হবে খেলা হবে। কিন্তু আজ যখন ইডি, সিবিআই বলছে আয় খেলা করি, হাতে হাত ধরি। কিন্তু হাত আর কেউ ধরছে না। মুখ্যমন্ত্রীর শখ হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী হবেন। ঘন ঘন দিল্লি যাচ্ছিলেন। কিন্তু আজ যখন তাদের নেতা মন্ত্রীদের এবং তাদের সিকিউরিটিদের সিবিআই দিল্লি নিয়ে যাচ্ছে, তখন কিন্তু আর দিল্লি যাচ্ছে না। কেউ বলছে না। সবাই বলছে ওই মুখো আর হব না।

অনুব্রত মণ্ডলের নাম না করে বিজেপি সভাপতি বলেন, যে নেতা একটা সময় বলেছিলেন, চরাম চরাম করে ঢাক বাজবে, সেই নেতা এত সুন্দর মাগুর মাছ বেচতো যে আজ তিনি কোটিপতি।” তিনি বলেন, চাকরি প্রার্থী যারা বসে আছেন তাদের কাছে কেষ্টর একটি ভিডিও তৈরি করে নিয়ে আসুন, কিভাবে কোটিপতি হওয়া যায়। তাহলে আর তারা কেউ চাকরি চাইবেন না। টিউশন পরিয়ে মাসে কয়েক হাজার টাকা ইনকাম করা যায়। কিন্তু এক মন্ত্রীর মেয়ে টিউশন পরিয়ে ব্যাংকের তিন কোটি টাকা রোজগার করেছেন ভাবুন কি ট্যালেন্টেড।”

রাজ্যে কৃষকের আত্মহত্যা নিয়ে সুকান্ত কটাক্ষের সুরে বলেন, “গোটা রাজ্যে মৃত্যুর মিছিল চলছে। একটি জেলাতে ১২৩ জন কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। আর মুখ্যমন্ত্রী জেলায় জেলায় কার্নিভাল করছেন। বেকার যুবকদের কান্না লুকাবার জন্য কান্নার শব্দকে চাপা দেয়ার জন্য কার্নিভালে জোরে জোরে ঢোল বাজাচ্ছে। যাতে কান্নার শব্দ শোনা না যায়। হীরক রাজার দেশের রাজা তার নিজের মূর্তি তৈরি করেছিলেন। জনগণ সেখানে স্লোগান দিয়েছিলেন দড়ি ধরে মারো টান, রাজা হবে খান খান। আমরাও এ রাজাকে খানখান করে ছাড়বো। এই রানীকে খানখান করে ছাড়বো। তার জন্য লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে হবে।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ধমকানো, চোখ দেখানো, আমরা এক বছর দেখে নিয়েছি আর দেখতে রাজি নই। তৃণমূল কংগ্রেস এবং পুলিশ প্রশাসনকে আমরা পরিষ্কার ভাবে বলতে চাই, আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিশ্বাস করি। আমরা মায়ের শান্তিপ্রিয় ছেলে কিন্তু প্রয়োজনে অস্ত্র হাতে তুলে নিতে ভয় পাই না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *