“আমি নমাজ পড়ি না”, দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরে লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গিয়ে বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

আমাদের ভারত, ১৬ জুন: সংখ্যালঘুদের তোষণ করেন তিনি। আইন ভাঙলেও ধর্ম দেখে শাস্তি নির্ধারণ করেন তিনি। তার রাজ্যে হিন্দুদের সুরক্ষা বারবার প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি নিয়ে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলে সরব হয় বিজেপি। সামাজিক মাধ্যমেও এই নিয়ে নানা সমালোচনা হয়। আজ দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরের লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এর জবাব দিলে মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বললেন, তিনি নমাজ পড়েন না। শুধুমাত্র ইফতারে যান।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “অনেকে বলে আমি নাকি নমাজ পড়ি। আমি নামাজ পড়ি না। ইফতারের যাই। রোজা অর্থাৎ দিনভর উপবাস ভাঙার সময় ওদের সঙ্গে আমি থাকি। এটাতো সর্বধর্ম সমন্বয়। এটা ধর্মীয় রীতি নয়। যে কোনো লোক যে কোনো ধর্মের মানুষই এতে অংশ নিতে পারেন।” একই সঙ্গে তিনি রাজ্যের একাধিক হিন্দু তীর্থ ক্ষেত্র রাজ্য সরকার যে সংস্কারের কাজে হাত লাগিয়েছে তার একের পর এক উল্লেখ করতে শুরু করেন। তিনি বলেন, ইসকনের মন্দিরের জন্য ৭০০ একর জমি দিয়েছেন, তারাপীঠে বিরাট ভোগ মন্দির করেছেন, দিঘাতেও পুরীর আদলে জগন্নাথ মন্দির তৈরি করা হচ্ছে।

দক্ষিণেশ্বরে স্কাই ওয়াক আগেই চালু হয়েছে। এবার লাইট অ্যান্ড সাউন্ড প্রকল্প চালু হল। অডিও ভিজুয়ালের মাধ্যমে দর্শকদের সামনে দক্ষিণেশ্বরের ইতিহাস তুলে ধরা হবে। দেশের একাধিক তীর্থক্ষেত্রে এই ধরনের লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের মাধ্যমে ইতিহাস জানানোর রীতি আছে। দক্ষিণেশ্বর এর মতো আন্তর্জাতিক তীর্থয় স্থানেও এটা চালু করা হল।

সংখ্যালঘুদের তোষণ নিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব বারবারই রাজ্যের শাসকদল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। এদিন পাল্টা দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “হিন্দু মুসলিম খ্রিস্টান কেউ অশান্তি করে না। যারা এসব করে তাদের মাথায় জঞ্জাল ভর্তি। হিন্দু ধর্ম তো অনেক উদার কিন্তু তার নামে রাজনীতি চলছে। আমি ছোটবেলা থেকে মা-বাবার কাছে এই দক্ষিণেশ্বরের কথা ইতিহাসে সব শুনে আসছি। আমি সর্বধর্ম সমন্বয় বিশ্বাসী। সব ধর্মকে সম্মান করি। আমি ইফতারে গেলে সমালোচনা হয়। কিন্তু যখন মন্দিরের জন্য টাকা দিই তখন তো প্রশ্নই ওঠে না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *