আমাদের ভারত, শিলিগুড়ি, ১২ আগস্ট: দেশের রাজনীতিতে পাহাড় সবসময় গুরুত্বপূর্ণ। সব দলের নজর থাকে পাহাড়ে। বিমল-বিনয়ের বিবাদ যেমন নজর কেড়েছিল দেশের রাজনৈতিক মহলের। একইভাবে তাদের আবার একসাথে হয়ে যাওয়ার দিকে নজর রয়েছে সকলের।
বিধানসভা নির্বাচনের পর চলতি বছর জুলাই মাসে নিজের তৈরী মোর্চা ছেড়ে দেন বিনয় তামাং। এরপর চার বছর পর গতকাল তিনি নিজে বিমল গুরুং এর সাথে বৈঠক করেন। আর এই বৈঠকের বিষয়েই বিমল গুরুং বলেন, আমি পাহাড়ের অভিভাবক। সকলের দুঃখ কষ্ট আমাকে শুনতে হয়। তাই বিনয় তামাং এরও নানান কষ্টের কথা শুনলাম। তবে আমরা পাহাড়ের ভবিষ্যত নিয়েও আলোচনা করেছি আমরা। পাহাড়ের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য কি করা যায় তা নিয়েও শলাপরামর্শ করেছি। কিন্তু রাজনৈতিক কোনও আলোচনা হয়নি। আমাদের মধ্যে একটা ভুল বোঝাবুঝির জন্যই চার বছর দেখা হয়নি। এখন সব মিটে গিয়েছে।
পাশাপাশি তিনি পাহাড় সমস্যা নিয়ে বিজেপির ডাকা ত্রিপাক্ষিক বৈঠক নিয়ে বলেন, আমি থাকতেও এরকম অনেকবার হয়েছে। তাই এসব বলে পাহাড়ের মানুষের সাথে মিথ্যার রাজনীতি করছে বিজেপি। আমাদের চিঠি পাঠালেও বৈঠকে যাবো না। আর এই বৈঠকও প্রতিবারের মত ভেস্তে যাবে কারণ রাজ্য সরকার যাবে না। আসলে পাহাড়ে কাজ না করে এসব করতেই ব্যস্ত বিজেপি।
প্রসঙ্গত পাহাড়ের মানুষের মূল দাবি পৃথক রাজ্য গোর্খাল্যান্ড। আশির দশকে জিএনএলএফ নেতা সুভাষ ঘিসিং এই আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলনে অনেক গোর্খা মারা যান কিন্তু আলাদা রাজ্য হয়নি। এরপর ২০০৭ সালে তৈরী হয় গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। একই দাবিতে ফের পাহাড় উত্তপ্ত হয়ে উঠে। বিমল গুরুং,বিনয় তামাং, হরকা বাহাদুর ছেত্রী সহ আরও অনেকে এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। কিন্তু ২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের সরকার আসার পর ত্রিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যে গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিষ্ট্রেশন(জিটিএ) গঠন করে। পাহাড় সমস্যার সাময়িক সমাধান হয়। ফের ২০১৭ সালে সেই গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে উত্তপ্ত হয় পাহাড়। প্রাণ হারান বেশ কয়েকজন গোর্খা। তখনই পাহাড় ছাড়া হন বিমল গুরুং। আর পাহাড়ে নতুন নেতা হন বিনয় তামাং। দুজনের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে দুটো আলাদা মোর্চা তৈরী হয়। এবার ফের চারবছর পর দুজনে একসাথে পথ চলার ইঙ্গিত দিয়ে রাখল পাহাড়বাসীকে তাদের বৈঠকের পর।

