চাঞ্চল্যকর দাবি স্বামীর, ঘুষ দিয়ে শিক্ষিকার চাকরি করছেন তাঁর স্ত্রী

স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ৪ সেপ্টেম্বর: চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন এক শিক্ষিকার স্বামী। স্বামীর অভিযোগ, তাঁর স্ত্রী টেটে পাস না করে ঘুষ দিয়ে চাকরি করছেন। যদিও, অভিযোগ অস্বীকার করেছন, তাঁর স্ত্রী।

জানাগেছে, ওই শিক্ষিকার নাম পাপিয়া মুখোপাধ্যায়। তিনি কল্যাণীর রাঘবপুর রূপান্তরিত নিম্ন বুনিয়াদি স্কুলে শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত। কল্যাণীর বাসিন্দা তাঁর স্বামী জয়ন্ত বিশ্বাসের দাবি, তাঁর স্ত্রী সাড়ে ৭ লক্ষ টাকার বিনিময়ে চাকরিটা পেয়েছেন। কিন্তু সেই অভিযোগ একেবারেই উড়িয়ে দিয়েছেন পাপিয়া। 

পাপিয়ার দাবি, তাঁর স্বামী সম্পূর্ণ ভাবে মিথ্যা কথা বলছে। তিনি যথাযথ পরীক্ষা দিয়ে পাস করে তবেই এই চাকরিটা পেয়েছেন এবং স্কুলে যোগদান করেছেন। যেহেতু তাঁর স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলছে তাই, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে তার বদনাম করার জন্য এই কাজটা করছেন বলে তিনি মনে করেন।

তিনি দাবি করেন, ‘স্বামীর সঙ্গে দীর্ঘদিন তার কোনও সম্পর্ক নেই। একাধিক কোর্টে ৬-৭টি মামলা চলছে। উনি কাকে টাকা দিয়েছেন জানা নেই।’ এছাড়াও তাঁর দাবি, ‘২০১২ সালে ছেলে অসুস্থ হওয়ায় টেট দিইনি। ওই অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে ২০১৪-য় পরীক্ষায় বসি। নিয়মানুযায়ী মোবাইলে এসএমএস আসে। নিয়ম মেনে ২০১৭-য় স্কুলে জয়েন করি। ‘ 

রাঘবপুর রূপান্তরিত নিম্ন বুনিয়াদি স্কুলের প্রধান শিক্ষক সিদ্ধার্ত শংকর ভট্টাচার্য জানান, “২০১৭ সালে পাপিয়া মুখার্জি এই স্কুলে শিক্ষিকা হিসাবে যোগদান করেছেন। তার ব্যবহার বা ছাত্র-ছাত্রীর প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্য তা কোনদিনও আমাদের বিচলিত করেনি। স্বাভাবিকভাবে শিক্ষক-শিক্ষিকারা যেমন ক্লাস নেন সেভাবেই তিনি কিন্তু ক্লাস নেন। তাই আমাদের মনে কোনদিনও সন্দেহের প্রশ্নই ওঠেনি।”

ঐ স্কুলের শিক্ষিকাদের কাছে এই প্রসঙ্গে সেভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কারণ, স্কুলের ছাত্রের সংখ্যা যথেষ্ট বেশি ও শিক্ষক শিক্ষিকার অনুপাত কম হওয়ায় তারা সবাই ক্লাস নিতে ব্যস্ত।’

ছাত্রদের অভিভাবকদের এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে গেলে তাদের অভিযোগ, “এটা তো এখন নতুন কিছু নয়। টিভি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে টেট দুর্নীতি দেখতে দেখতে আমরা এখন অভ্যস্ত হয়ে গেছি। যারা প্রকৃত শিক্ষিত তারা এখন চাকরি পায় না, আর অন্যদিকে যারা কোনও কিছুর বিনিময়ে যোগদান করে তাঁরাই টিকে থাকে। এটা একটা নিন্দনীয় ঘটনা। মন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীকেও কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে টেটে পাস না করে স্কুলে শিক্ষিকা হিসাবে নিয়োগ হয়ে বেতন নেওয়ার জন্য টাকা ফেরৎ দিতে হয়েছে। খোঁজ নিলে দেখতে পাবেন এরকম আরো অনেক অঙ্কিতা আছে। এ সরকারের আমলে ঘুষের টাকাটাই শেষ কথা। ঘুষ না দিলে চাকরি মিলবে না। তাই আপনি যতই শিক্ষিত হোন না কেন টেবিলের তলা দিয়ে ঘুষ না দিলে চাকরি মেলা দুষ্কর।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *