পুরুলিয়ায় স্ত্রীকে খুনের দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন, সাক্ষী ছেলে

সাথী দাস, আমাদের ভারত, পুরুলিয়া, ৪ জুন: স্ত্রীকে খুনের দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল পুরুলিয়া জেলা আদালত। উল্লেখ যোগ্য ভাবে ওই ঘটনার মূল সাক্ষী ছিলেন ছেলে।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালের আগস্ট মাসের ১৭ তারিখ সন্ধ্যায় কেন্দা থানার ভাদসা গ্রামের গৃহবধূ অষ্টমী মাহাতোকে বাড়ির লোকজনের সামনেই স্বামী চিত্তরঞ্জন মাহাতো ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ মারে। ওই গৃহবধূর চিৎকার শুনে ছুটে আসে তার ছেলে মৃগাঙ্ক মাহাতো সহ পরিবারের অন্যান্যরা। গুরুতর আহত অবস্থায় অষ্টমীকে পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। সেই দিনই অষ্টমীর দাদা মথুর চন্দ্র মাহাতো কেন্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই রাতেই অভিযুক্ত চিত্তরঞ্জন মাহাতোকে কেন্দা থানার পুলিশ গ্রেফতার করে। তারপর পর থেকেই অভিযুক্ত চিত্তরঞ্জন মাহাতো জেলেই রয়েছে।

এই মামলায় বিচারকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান দেন প্রত্যক্ষদর্শী ছেলে মৃগাঙ্ক মাহাতো। পুরুলিয়া সার্কিট হাউসের অস্থায়ী কর্মী মৃগাঙ্কের বয়ান অনুযায়ী শুক্রবার চিত্তরঞ্জনকে দোষী সাব্যস্ত করে পুরুলিয়া জেলা আদালত। আজ শনিবার তার রায় ঘোষণা করেন জেলা আদালতের প্রথম কোর্টের অতিরিক্ত ও দায়রা বিচারক অর্চিতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনের রায়ে স্বামী চিত্তরঞ্জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারক। অনাদায়ে ৬ মাসের সশ্রম কারা দণ্ডের নির্দেশ দেন।

মামলার সরকারি আইনজীবী পার্থ সারথী রায় বলেন, “তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিক বাপন মণ্ডল ঘটনার যথাযথ তদন্ত করেছেন এবং মৃতার বড় ছেলের সাক্ষ্য এই রায় দানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছে।”

আজ রায় শোনার জন্য আদালত চত্বরে উপস্থিত ছিলেন মৃতা অষ্টমী মাহাতো তথা অভিযুক্ত চিরঞ্জীত মাহাতোর পুত্র মৃগাঙ্ক মাহাতো। বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তাঁর মাকে খুনের সে সাক্ষ্যও দিয়েছিলেন। তারপর আজ এই রায়। তার কী কোথাও অনুশোচনা হচ্ছে এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান , “একজন অন্যায়কারীকে আইন সাজা দিয়েছে, আমি এটাই জানি। সেখানে অপরাধী কে সেটা বড় কথা নয়।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *