দাসপুরে পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রীকে খুন করে আত্মসমর্পণ স্বামীর

জে মাহাতো, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ২৮ এপ্রিল: পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রীকে গলাটিপে খুন করে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে এক যুবক। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে দাসপুর থানার রামগড় গ্রামের বাসিন্দা প্রসেনজিৎ বিজলী স্থানীয় ভিলেজ পুলিশ সুশান্ত কপাটের কাছে গিয়ে জানায় সে তাঁর স্ত্রী আস্থা বিজলীকে গলায় ফাঁস দিয়ে খুন করেছে। ঘটনা শোনার পর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে ওই ভিলেজ পুলিশ দাসপুর থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ওসি অমিত মুখোপাধ্যায় অভিযুক্ত স্বামী প্রসেনজিৎকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে সংবাদ মাধ্যমের সামনেই কান্নায় ভেঙে পড়ে স্ত্রীকে গলা টিপে খুন করার পর গলায় শাড়ির ফাঁস লাগিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করে।

পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, স্ত্রীকে পরকীয়ায় জড়িত বলে সন্দেহ করত সে। প্রসেনজিৎ জানিয়েছে,  বার বার স্ত্রীকে নিষেধ করা স্বত্ত্বেও সে পাড়ার যুবকদের সাথে কথা বলত। এই নিয়ে অশান্তি লেগেই থাকত। বুধবার রাতে ফের একই কারণে বচসা চরমে ওঠে। এরপরই সে স্ত্রীকে গলা টিপে খুন করে পরনের শাড়ির একাংশ দিয়ে বাড়ির চিলে কোঠায়  ঝুলিয়ে দেয়। এরপর নিজেই বউয়ের হয়ে একটি আত্মহত্যা লিপি বা সুসাইড নোট লিখেছিল। কিন্তু যত রাত গড়িয়েছে ধীরে ধীরে সে ভেঙে পড়তে থাকে এবং সকাল হতেই ছুটে যায় ভিলেজ পুলিশের কাছে। নিজের কীর্তি খুলে বলে সে।

ঘাটাল মহকুমা পুলিস আধিকারিক অগ্নিশ্বর চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রসেনজিৎ বিজলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঝগড়ার সময় রাগের বশে স্ত্রীর গলায় ফাঁস লাগিয়ে খুন করার কথা সে স্বীকার করেছে। পুলিশ ২২ বছরের আস্থা বিজলীর দেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। বছর পাঁচেকের বিবাহিত প্রসেনজিৎ ও আস্থার ১ বছরের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। আস্থার বাপের বাড়ি দাসপুরেই ধর্মা এলাকায়। এই ঘটনায় বাকরুদ্ধ প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, পরকীয়া সন্দেহেই  স্ত্রীকে খুন করেছে প্রসেনজিৎ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *