স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ১৬ মার্চ: বৃহন্নলাদের চাপে জমানো সঞ্চয় স্ত্রী দিয়ে দেওয়ায় অভিমানে আত্মঘাতী স্বামী। ঘটনায় শোকের ছায়া এলাকাজুড়ে।

কিছুদিন আগেই জন্ম নিয়েছে সন্তান। সেই সন্তানের জন্য বাড়িতে আসে বৃহন্নলাদের একটি দল। পরিবারের অভিযোগ, সন্তান হওয়ায় টাকার জন্য চাপ দেয় ওই বৃহন্নলারা। এরকম পরিস্থিতিতে পরিবারের জমানো অর্থের পুরোটাই ওদের হাতে তুলে দেয় স্ত্রী। কাজ থেকে বাড়ি ফিরে এমন ঘটনা শুনে রীতিমতো ঝগড়া শুরু করে স্বামী। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার গভীর রাতে গলায় ফাঁস জড়িয়ে আত্মঘাতী হলেন স্বামী পুচকা মহন্ত (৩২)। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহারের ৩ নম্বর দুর্গাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তিওর গ্রামে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হাটে, বাজারে বা মেলায় চপ ভাজা বিক্রি করে সংসার চালাতো পুচকা মহন্ত। ওর বিয়ে হয়েছে বছর দেড়েক আগে। মাস দু’য়েক হল ওদের একটি পুত্র সন্তান হয়। এই অবস্থায় গতকাল দুপুরে ওদের বাড়িতে আসে বৃহন্নলাদের দল। পুচকা সেই সময় চপ বিক্রি করতে হাটে গিয়েছিল। অর্থের দাবিতে বৃহন্নলারা চাপ দিতে শুরু করে পুচকার স্ত্রীর ওপর। পু্চকার স্ত্রী তাদের জমানো অর্থ নগদ ২ হাজার তুলে দেয় ওই বৃহন্নলাদের হাতে বলে দাবি। খুশি হয়ে বৃহন্নলারা ফিরে গেলেও পুচকা বাড়িতে ফিরতেই ঝগড়া শুরু হয় স্বামী স্ত্রীর মধ্যে। শেষমেশ গভীর রাতে গলায় ফাঁস জড়িয়ে আত্মঘাতী হন স্বামী পুচকা মহন্ত। এমন ঘটনায় বুধবার সকালে গ্রামে পৌঁছায় ইটাহার থানার পুলিশ।

মৃতদেহটিকে ময়না তদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকাজুড়ে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ ট্রান্সজেন্ডার ডেভলপমেন্ট বোর্ডের সদস্য সোনামণি শেখ বলেন, তাদের সদস্যরা কেউ গেলে তারা সেখানে ভিজিটিং কার্ড দিয়ে আসে। পাশাপাশি কোনো বৃহন্নলা যদি কোথাও ঝগড়া বা খারাপ ব্যবহার করলে তার কমপ্লেন আসলে তারা ব্যবস্থা নেবেন। ওই বিষয়টা তারা তদন্ত করে দেখবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

