জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৬ সেপ্টেম্বর: স্ত্রীর নিত্যনতুন বায়না। আর তা পুরন না হলে অশান্তি। লাগাতার অশান্তির কারণে বাড়ির পোষা কুকুরের বেল্ট গলায় পেঁচিয়ে স্ত্রীকে খুনের অভিযোগ উঠল এক সহকারী ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের বিরুদ্ধে।খুন করে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করলেন। রবিবার রাতে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে, কাঁকসার বামুনাড়া এলাকায়। পুলিশ অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, নিহতের নাম ইপ্সা প্রিয়দর্শনী (৩৫)। অভিযুক্ত স্বামীর নাম বিপ্লব পরিদা। মূল বাড়ি ওড়িশার কটকে। বছর দু’য়েক হল বিয়ে হয়েছে। দুর্গাপুর মামড়া বাজারে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সহকারী ম্যানেজার বিপ্লববাবু।
কাজের সুত্রে কাঁকসা থানার বামুনাড়ায় একটি বহুতল আবাসনে থাকতেন বিপ্লব পরিদা ও তাঁর স্ত্রী ইপ্সা প্রিয়দর্শনী। ঘটনায় জানা গেছে, ইপ্সাদেবী নিত্যদিন নতুন নতুন চাহিদা ও বায়না করতেন বলে অভিযোগ। এটাই তাদের সংসারে রোজনামচা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। রবিবার রাতে সেই অশান্তি চরমে পৌঁছয়। ব্যাঙ্ক আধিকারিক স্বামী বাড়ির পোষা কুকুরের বেল্ট স্ত্রীর গলায় পেঁচিয়ে খুন করেন বলে অভিযোগ।

রবিবার রাতে ঘটনার পর বিপ্লববাবু নিজেই মোটরবাইক চালিয়ে কাঁকসা থানায় যান৷ কাঁকসা থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককে গিয়ে বলেন, “আমি আমার স্ত্রীকে খুন করে এসেছি। আপনারা চলুন।” খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে নিয়ে তাঁর ফ্ল্যাটে যায় এবং ঘরের দরজা খুলে দেখন, বছর পঁয়ত্রিশের ইপ্সা প্রিয়দর্শনীর নিথর দেহ মেঝেতে পড়ে রয়েছে। বিপ্লব পরিদা জানান, বছর দুয়েক আগে দেখাশোনা করেই বিয়ে হয়েছিল। নিত্যদিন নতুন নতুন চাহিদা, যে কারনে অশান্তি লেগেই থাকত। সংসারের দিকে কখনওই নজর থাকত না ইপ্সার৷ প্রায়দিনই শপিংয়ের ঝোঁক ছিল তাঁর। তার ওপর বেড়াতে যাওয়ায় বায়না লেগেই থাকত৷ শেষ কিছুদিন ধরে ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে ভর্তি হওয়ার বায়না ধরেছিল।”
রবিবার অশান্তি চরমে পৌঁছায়। তার জেরে উত্তেজিত হয়ে পোষা কুকুরের গলার বেল্ট দিয়ে স্ত্রীর গলায় ফাঁস লাগিয়ে খুন করেন বলে নিজেই জানান।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের আগষ্ট মাসে সমরেশ সরকার নামে মামড়া বাজারের এক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের আধিকারিক দুর্গাপুরের বিধাননগরের বসবাসকারী সুচেতা চক্রবর্তী ও তাঁর দুধের শিশুকন্যাকে পিস পিস করে কেটে খুন করে বলে অভিযোগ। তারপর একটি বড় ট্রলি ব্যাগের ভেতর ওই দেহাংশ ভরে গাড়ি ভাড়া করে হুগলির তিন পয়সার ঘাটে নৌকো থেকে গঙ্গায় ট্রলিব্যাগ ফেলতে গিয়ে ধরা পড়ে মাঝিদের হাতে। নৃশংস ওই ঘটনার মামলা এখন শ্রীরামপুর আদালতে বিচারাধীন। তারপর এদিনের ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়েছে শিল্পশহরজুড়ে। এদিনের ঘটনায় পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক অনুমান, পারিবারিক অশান্তির জেরে খুন। মৃতার বাবা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’
ইপ্সা দেবীর বাবা শুধানন্দ বেহেরা মেয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বিয়ের সময় দাবি মতো সমস্ত জিনিস দেওয়া হয়েছিল। জামাই বিপ্লব ভুবনেশ্বরে ফ্ল্যাট নেওয়ার জন্য ৩০ লক্ষ টাকা বাড়ি থেকে নিয়ে আসার চাপ দিচ্ছিল। তার জন্য নির্যাতন করত মেয়েকে। তাই দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।” এদিন অভিযুক্ত বিপ্লবকে আদালতে তোলা হলে বিচারক ৫ দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন।

